কলকাতা : আনন্দপুর থানা এলাকায় তিনটি রহস্যমৃত্যু ! তিনটি পৃথক জায়গা থেকে তিন জনের দেহ উদ্ধার করা হয় । 

একটি হোটেল থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বার ডান্সারকে। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত ড্রাগের কারণে মৃত্যু কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দ্বিতীয় ঘটনায়, বাইপাসের কাছে গাছ থেকে উদ্ধার হয় এক ব্যক্তির ঝুলন্ত দেহ। প্রায় ৩০ ফুট উচ্চতায় মেলে বছর পঞ্চাশের ব্যক্তির দেহ। আত্মহত্যা বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের। অপর একটি ঘটনায়, নোনাডাঙায় বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় এক মহিলার দেহ । আত্মঘাতী বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের।

দিনকয়েক আগেই, নিখোঁজ তরুণীর খোঁজে সন্ধানে এসে আনন্দপুরের নোনাডাঙা খাল থেকে উদ্ধার হয় জোড়া মৃতদেহ। প্রথমে রোহিত আগরওয়াল নামে এক যুবকের দেহ, তারপর রণিতা বৈদ্য নামে ওই নিখোঁজ তরুণীর দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, রোহিত আগরওয়ালের কাছে স্কুটার চালানো শিখছিলেন রণিতা বৈদ্য। রাতের সিসিটিভি ক্য়ামেরার ফুটেজে নোনাডাঙা খালের কাছে শেষবার একসঙ্গে দেখা গেছিল তাদের।

হন্তদন্ত হয়ে খালের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন এক তরুণী। পিছন পিছন এক তরুণ। আর তারপরই ঝুপ্ করে একটা শব্দ ! স্কুটার শিখতে এসে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ তরুণ-তরুণীর সন্ধানেমাঝ রাত থেকে সকাল...ঘণ্টার পর ঘণ্টা তল্লাশি..ডুবুরি থেকে স্নিফার ডগ.. এমনকী, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর তল্লাশি অভিযানও চলে। অবশেষে কলকাতার আনন্দপুরের নোনাডাঙা খাল থেকে উদ্ধার হয় জোড়া মৃতদেহ।

প্রথমে বেলা ১২ টা নাগাদ উদ্ধার করা হয় তরুণের দেহ। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁর নাম রোহিত আগরওয়াল ওরফে বুল্লু (১৯)। বাড়ি আনন্দপুর থানার পঞ্চান্নগ্রামে। তরুণের দেহ উদ্ধারের ঘণ্টাখানেকের মধ্যে উদ্ধার হয় নিখোঁজ তরুণীর দেহও। মৃতার নাম রণিতা বৈদ্য(২৩)। তাঁর বাড়িও ওই একই এলাকায়। পুলিশ সূত্রে খবর, দু'জনের মধ্য়ে প্রেমের সম্পর্ক ছিল!রোহিতের কাছে স্কুটার চালানো শিখছিলেন রণিতা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার, স্কুটার চালানো শিখতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান রণিতা। খোঁজ মিলছিল না রোহিতেরও। এরপর সোমবার মধ্যরাতেই ডুবুরি নামানো হয় নোনাডাঙা খালে। পুলিশ সূত্রে খবর, রাত ৯টা নাগাদ, একটি সিসিটিভি ফুটেজে খালের পাশের রাস্তায় শেষবার একসঙ্গে দেখা যায় রোহিত-রণিতাকে। ঘটনার ৪৫ মিনিট আগে দু'জনের মধ্যে তীব্র বচসা হয়। বচসা গড়ায় হাতাহাতিতে। এরপর, আরেকটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হন্তদন্ত হয়ে নোনা়ডাঙা খালের দিকে চলে যাচ্ছেন রণিতা। স্কুটার রেখে, পিছন পিছন রোহিতও চলে যান সেখানে। এরপরই ঝুপ্ করে কিছু একটা পড়ে যাওয়ার শব্দ পান স্থানীয় এক বাসিন্দা। কিন্তু, ঘটনাস্থলে কোনও সিসি ক্যামেরা না থাকায় রহস্য় তৈরি হয়! এরপর মঙ্গলবার প্রথমে রোহিতের দেহ, তারপর রণিতার দেহ খাল থেকে উদ্ধার হয়!