হিন্দোল দে, কলকাতা: শহরের বুকে রোমহর্ষক ঘটনা। খাস কলকাতার জনবহু এলাকায় পার্লারে ঢুকে কোপানো হল মালকিনকে। রক্তে ভেসে গেল পার্লার। সকলের সামনে পাল্টা ছেলেটিকেও কোপাতে শুরু করলেন মহিলা। আক্রমণ , পাল্টা আক্রমণ ... রক্তগঙ্গা.. যে কোনও ক্রাইম থ্রিলারকেও হার মানায়। পার্লারেই লুটিয়ে পড়লেন মহিলা। পড়ে রইল যুবকের মৃতদেহও। ব্যস্ত দিনের বেলায় জনবহুল এলাকায় এলাকার পরিচিত পার্লারে এমন ঘটনা দেখে স্তম্ভিত সকলে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। মহামায়াতলার এই তেঁতুলতলা এলাকাটি নরেন্দ্রপুর থানা এলাকায় পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ এসে পৌঁছায়। উদ্ধার হয় রক্তাক্ত যুবকের দেহ । মহিলার শরীরও তখন রক্তে ভেসে গিয়েছে। তাকে তড়িঘড়ি নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় হিন্দুস্তান হেলথ পয়েন্ট নার্সিং হোমে। সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। ইতিমধ্যেই পার্লারটি সিল করেছে পুলিশ।
কীভাবে মৃত্যু হল দুজনের ? যুবকের অস্ত্রের কোপেই কি মৃত্যু হয়েছে মহিলার? নাকি যুবককে মেরে আত্মঘাতী হয়েছেন মহিলা? নাকি ঠিক তার উল্টোটা? পুরোটাই এখনও ধোঁয়াশা। পুলিশ তদন্ত করে সত্যি সামনে আনার চেষ্টা করছে। কিন্তু চোখের সামনে এমন ভয়াবহ ঘটনা দেখায়, মুখে কুলুপ এঁটেছে এলাকার মানুষ। কারও কাছ থেকেই বিশেষ কোনও তথ্য জানা যাচ্ছে না।
প্রশ্ন উঠছে, কী এই যুবকের পরিচয়? মহিলার সঙ্গেই বা কী সম্পর্ক ? উত্তর খুঁজছে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে মৃত যুবকের বয়স ২২-২৪ মতো। আর মহিলাটি মধ্যবয়স্ক। তাই তাঁদের মধ্যে কী সম্পর্ক , কী নিয়ে বচসা, তা স্পষ্ট নয়। আরও জানা গিয়েছে, এই যুবকটিও স্থানীয় নয়। সে কাশ্মীরের ছেলে। তাহলে এখানে কী সূত্রে তার বাস? কেনই বা মহিলার সঙ্গে চেনাশোনা? সবটাই তদন্তকারীদের স্ক্যানারে। কীভাবে মৃত্যু যুবকের? আত্মহত্যা না পাল্টা আঘাত? উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
মহিলার বাড়ির লোককে খবর দেওয়া হয়েছে। তাঁরাও এসে পোঁছেছেন হাসপাতালে। জানতে চাওয়া হচ্ছে এই মহিলার সঙ্গে ওই যুবকের সম্পর্কের প্রসঙ্গে। কী নিয়েই বা তাদের বচসা? আর এমন সময়, এমন জনবহুল জায়গায় কীভাবেই সে সটান পার্লারে ঢুকে পড়ল প্রশ্ন উঠছে। তাহলে কি এই ছেলেটির আগে থেকেই যাতায়াত ছিল পার্লারে? জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
ঘটনার পর থেকেই এলাকার পরিস্থিতি থমথমে।
