অনলাইনে খাবার অর্ডার করে খাওয়ার অভ্যেস বেড়েছে  অনেকেরই। বাড়ি বসে রেস্টুরেন্টের মুখরোচক খাবার খাওয়ার মজা এখন অনেকেরই রোজকার অভ্যেস। অফিস লাঞ্চ বা উইকএন্ডে এলায়েতি খাওয়া দাওয়ার জন্য অনেকেরই ভরসা অনলাইন ফুড ডেলিভারি সংস্থাগুলি। কিন্তু এবার তা করতে গেলে খরচ বাড়ছে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ আবহে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি ভোগ করছে এই ফুড ডেলিভারি সংস্থাগুলি। কয়েকদিন আগেই Zomato তাদের প্ল্যাটফর্ম চার্জ বাড়ানোর ঘোষণা করে । এবার একই পথে হাঁটল Swiggy। অর্ডার পিছু গ্রাহকদের খরচ আরও কিছুটা বাড়তে চলেছে।

 কতটা বাড়ল চার্জ?

Swiggy তাদের প্ল্যাটফর্ম ফি বাড়িয়ে  অর্ডার প্রতি বাড়িয়ে করল  ১৭.৫৮ টাকা (GST সহ)। আগে তা ছিল ১৪.৯৯ টাকা।  অন্যদিকে, Zomato-ও তাদের চার্জ ১২.৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪.৯০ টাকা (GST ছাড়া) করেছে। ট্যাক্স যোগ করলে দুই সংস্থার চার্জ এখন প্রায় একই।

কেন বাড়ছে এই চার্জ?

খাবার ডেলিভারি সংস্থাগুলির মতে, এই অতিরিক্ত প্ল্যাটফর্ম ফি ব্যবহার করা হয়—অ্যাপ পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে, প্রযুক্তিগত উন্নয়নে, ডেলিভারি সিস্টেম সচল রাখতে। যদিও এই চার্জ-বৃদ্ধি চোখে দেখে বিরাট বেশি নাও লাগতে পারে, কিন্তু নিয়মিত অর্ডার করে যাঁরা খাবার আনান, তাদের মাসিক খরচে বড় প্রভাব পড়তে পারে। তবে এই প্রতিযোগিতার বাজারে সুইগি , জোম্যাটোকে নতুন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে Rapido। তাদের নতুন পরিষেবা “Ownly”-তে গ্রাহকদের থেকে অতিরিক্ত প্ল্যাটফর্ম ফি নেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। 

এই সিদ্ধান্তের প্রভাব কীভাবে পড়বে বাজারে

প্রতিটি অর্ডারে সামান্য খরচ বাড়বে। নিয়মিত অর্ডার করলে মাসিক খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। নতুন প্রতিযোগীরা এলে ভবিষ্যতে দাম কমার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। 

প্ল্যাটফর্ম ফি কেন বাড়ছে?

খাবার ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলি দীর্ঘদিন ধরেই খুব কম লাভের মার্জিনে কাজ করে আসছে। গ্রাহকদের জন্য ছাড়, ডেলিভারি ব্যবস্থাপনা এবং রেস্তোরাঁর সঙ্গে অংশীদারিত্ব—এই সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হয় তাদের। তবে এই খাতটি পরিণত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, সংস্থাগুলি এখন তাদের ইউনিট ইকোনমিক্স উন্নত করার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

প্ল্যাটফর্ম ফি বাড়ানোর মাধ্যমে, সংস্থাগুলি প্রতি অর্ডারে একটি স্থির আয়ের উৎস তৈরি করতে পারে, যা ছাড় বা প্রচারমূলক অফারের উপর নির্ভর করে না।

গ্রাহকদের জন্য এর অর্থ কী

ব্যবহারকারীদের জন্য, এই বৃদ্ধি প্রতিটি অর্ডারে আলাদাভাবে খুব বেশি মনে নাও হতে পারে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি একটি বড় অঙ্কে পৌঁছাতে পারে। যারা নিয়মিত খাবার ডেলিভারি অ্যাপ ব্যবহার করেন, তাদের মাসিক খরচে স্পষ্ট বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে।

এই মূল্যবৃদ্ধির সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যখন ভোক্তাদের মনোভাব এবং খরচের ধরণ বিশেষভাবে নজরে রাখা হয়।

প্ল্যাটফর্ম ফি বাড়ার পাশাপাশি ডেলিভারি চার্জ, প্যাকেজিং খরচ এবং ব্যস্ত সময়ে সার্জ প্রাইসিং যুক্ত হয়ে, খাবার অর্ডার করার মোট খরচ আগের তুলনায় আরও বেশি হয়ে উঠতে পারে।