কলকাতা: অক্ষয় তৃতীয়ার আগের রাতে মৃত্যুপুরী হয়ে ওঠে বড়বাজার। মেছুয়া ফলপট্টিতে ঋতুরাজ হোটেলে বিধ্বংসী আগুনে মৃত্যু হয় ১৪ জনের। প্রবল ধোঁয়ার জেরে কার্যত গ্যাস চেম্বার হোটেলে দমবন্ধ আবাসিকদের। এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন তিনি।
আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা: আগুনের জেরে এখনও পর্যন্ত দুই শিশু, এক মহিলা-সহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রবল ধোঁয়ায় গ্যাস চেম্বারে পরিণত হওয়া হোটেলে দমবন্ধ হয়ে একের পর এক মৃত্যু। ৮ জনের দেহ শনাক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে দুঃখপ্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি লেখেন, "বড়বাজার এলাকায় একটি বেসরকারি হোটেলে (ঋতুরাজ) অগ্নিকাণ্ডের ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আমার হৃদয় কাঁদছে।আমি সারারাত উদ্ধারকাজ এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ পর্যবেক্ষণ করেছি। এলাকায় অনেকগুলি দমকলের গাড়ি পাঠানো হয়েছে। ভিতরে দাহ্য পদার্থ মজুত থাকার কারণে ১৪ জন মারা গেছেন। তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।''
বড়বাজারের ৬ তলা ঋতুরাজ হোটেলের ইটের গাঁথনি দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল হোটেলের ঘরের সমস্ত জানলা। ফলে আগুন লাগার পর ধোঁয়া বের হওয়ার উপায় ছিল না। কার্যত গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয় গোটা হোটেল। ৬ নম্বর মদনমোহন বর্মন স্ট্রিটের ঋতুরাজ হোটেলের একতলায় দোকান ও গুদাম রয়েছে। ওপরের অংশে হোটেল, ৪৭টি ঘর রয়েছে। এর মধ্যে ৪২টি ঘরে ৮৮ জন আবাসিক ছিলেন। । স্থানীয়দের দাবি, রাত সোয়া ৮টা নাগাদ দোতলা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। সেখান থেকেই আগুন ছড়ায়। দমকলের ১০টি ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেল থেকে অনেককেই উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় RG কর, NRS ও কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে। ২ জন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। মৃতদের মধ্য়ে অনেকেই ভিনরাজ্যের বাসিন্দা। প্রাণ বাঁচাতে পাইপ বেয়ে নামতে গিয়ে মৃত্যু হয় একজনের। কেউ কেউ ছাদের কার্নিস থেকে পড়ে যান। অন্ধকারে অনেকে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামার চেষ্টা করেছিলেন। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়। হোটেলের ঘরে, শৌচাগারে,করিডরে এবং সিঁড়িতে দেহ মেলে।