প্রকাশ সিন্হা, সুকান্ত মুখোপাধ্য়ায় ও কৃষ্ণেন্দু অধিকারী: বিদেশ যাওয়ার পথে কলকাতা বিমানবন্দরে আটকানো হল অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের (Abhishek Banerjee) স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Rujira Banerjee)। বিমানবন্দরেই তাঁকে নোটিস ধরাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কয়লা মামলায় বৃহস্পতিবার তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হতে বলা হয়েছে। পরিবার সূত্রে খবর, এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন রুজিরা (Coal Case)।
সোমবার সকালে কলকাতা বিমানবন্দরে আটকানো হয় রুজিরাকে। দুবাই যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে তাঁকে আটকে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে, রুজিরার বোন, মেনকা গম্ভীরের সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটে। তাই গোটা ঘটনায় রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। অসুস্থ মাকে দেখতে যাওয়ার পথে অভিষেক-পত্নীকে আটকানোর নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল।
বিমানবন্দরে রুজিরাকে আটকানো নিয়ে সোমবারই মুখ খোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে, ইডি-কে জানিয়েই বিদেশ যাচ্ছিলেন রুজিকা। অসুস্থ মাকে দেখতে যাচ্ছিলেন। সেই সময় বিমানবন্দরে গিয়ে তাঁকে নোটিস ধরানো অমানবিক বিষয়।"
সোমবার সকাল ৭টা নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছন রুজিরা। সূত্রের খবর, বিমানবন্দরে ক্লিয়ারেন্সের জন্য অভিবাসন দফতরে গেলে তাঁকে জানানো হয় যে, ED-র করা মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে লুকআউট সার্কুলার রয়েছে। তাই বিদেশ যাওয়ার অনুমতি নেই তাঁর।
নিয়ম অনুযায়ী, কোনও সংস্থার তরফে, কোনও ব্যক্তির নামে লুকআউট নোটিস জারি করা হলে, সেই ব্যক্তি দেশের বাইরে যেতে চাইলে, অভিবাসন দফতর সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে বিষয়টি জানায়। সেই মতোই রুজিরা বিদেশ যাচ্ছেন বলে সোমবার অভিবাসন দফতর জানায় ED-কে।
রুজিরাকে এ ভাবে আটকানোয় রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। এ ব্য়াপারে CPM-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, "যিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী, যাঁর বাড়ির ঠিকানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও ঠিকানা, তিনি হঠাৎ হঠাৎ বিদেশ যাচ্ছেন।চুরি অথবা তথ্যপাচারের সঙ্গে যপক্ত তাঁদের স্বাভাবিক গন্তব্য কি তাইল্যান্ড অথবা দুবাই? নাকি কাকু মারফচ লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নাম সামনে আসার পর আপাতত দেশত্যাগের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হচ্ছে?"
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, "সংঘবদ্ধ ভাবে লুঠ করে ব্যাঙ্ক, তাইল্যান্ডে পাচার। ব্যাঙ্ককের একাধিক অ্যাকাউন্টে কয়লা পাচারের টাকা। মুখ্যমন্ত্রী আড়াল করার চেষ্টা করছেন। মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের লোকেরা এত বার বিদেশ যান কেন?"
তবে এর পাল্টা জবাব দিয়েছেন অভিষেকও। তিনি বলেন, "আমার সঙ্গে পেরে উঠছে না। তাই আমার স্ত্রী ও বাচ্চাকে হেনস্থা করছে। যারা ত্রিপল চুরি করে, টিভির পর্দায় যাদের টাকা নিতে দেখা যায়, তারা বাঁচতে বিজেপি-তে গিয়েছে। আমি নরেন্দ্র মোদিকে বলছি, আমার বয়স ৩৬, আপনার ৭২। পারলে জনতার দরবারে এসে আমার সঙ্গে লড়াই করুন। আপনি না পেরে সিবিআই-ইডি-কে কাজে লাগাচ্ছেন। পারলে আমাকে গ্রেফতার করুন।"
সূত্রের খবর, সোমবার রুজিরাকে আটকানো হলে বিমানবন্দরে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিবার সূত্রে খবর, সেখানে রুজিরা জানান, সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি ছিল যে, শর্তসাপেক্ষে তিনি বিদেশে যেতে পারবেন। শর্ত ছিল যাওয়ার আগে চিঠি দিয়ে জানাতে হবে ED-কে। রুজিরার পরিবার সূত্রে খবর, সেইমতো ED-কে চিঠি দিয়ে বিদেশে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন রুজিরা। মা গুরুতর অসুস্থ বলে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন তিনি। মানবিক কারণে অনুমতি দেওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন।
কিন্তু অভিবাসন দফতরের তরফে বলা হয়, ED-র মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে লুকআউট সার্কুলার জারি রয়েছে। তখন রুজিরা জানান, সুপ্রিম কোর্ট তাতে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। এর পর, দিল্লির ইডি দফতর থেকে দুটি নির্দেশনামার কপি অভিবাসন দফতরে পাঠানো হয়। নির্দেশনামা দেখে অভিবাসন দফতরের আধিকারিকরা বলেন, কোথাও স্থগিতাদেশের কথা বলা নেই। এর পর দুই সন্তানকে নিয়ে বিমানবন্দরের চার নম্বর গেটs CISF-এর রেজিস্টারে এন্ট্রি করে, বিমানবন্দর ছাড়েন রুজিরা।সোমবার রুজিরাকে বিমানবন্দরে আটকানো এবং সেখানেই ED-র নোটিস প্রসঙ্গে তৃণমূল সূত্রে বলা হয়েছে, ২০২২-এর ৫ থেকে ১৮ অক্টোবর রুজিরা বন্দ্যোপাধ্য়ায় ED-র কোনও আপত্তি ছাড়াই আমেরিকায় ভ্রমণ করেন। ED-র তদন্ত চলাকালীন রুজিরার বিদেশ ভ্রমণে কোনও বাধা দেওয়া হয়নি। ২০২২-এর ২৩ জুন ছাড়া তাঁকে আজ পর্যন্ত ডাকা হয়নি। যেদিন তিনি যথাযথ ভাবে নির্দেশ মেনেছিলেন। যদিও জানানোর প্রয়োজন ছিল না, তবু তাঁর বিশ্বস্ততা প্রমাণে ৩ জুন ২০২৩ মেলে ৫ জুন থেকে ১৩ জুন তাঁর সন্তানদের নিয়ে দুবাই সফরের কথা ED-কে জানিয়েছিলেন। কিন্তু, ED-র তরফে আপত্তি জানিয়ে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি বা রুজিরার মেলের সাড়া মেলেনি, যা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে তারা করতে পারেন না। তাই বৃহস্পতিবার কি ইডির সামনে হাজিরা দেবেন অভিষেক পত্নী রুজিরা, উঠছে প্রশ্ন।