ঐশী মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : রবিবার সকালে ভয়াবহ ঘটনা কলকাতার ঠাকুরপুকুরে। ছুটির দিনে বাজারে স্বাভাবিকভাবেই ভিড় বেশি ছিল বাজারে। এমন সময়ই খালের পাড়ের রাস্তা দিয়ে বাজারের মধ্যে ঢুকে পড়ে দুরন্ত গতির একটি গাড়ি। দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে গাড়িটি একের পর এক মানুষকে ধাক্কা মারতে থাকে। 

 পর পর ৮ থেকে ১০ জনকে ধাক্কা                     

স্থানীয়দের দাবি, গাড়িটি বেপরোয়া গতিতে ঢুকে পড়ে বাজারে। এই রাস্তায় এমনিই গাড়ি চলা নিষেধ। কিন্তু কীভাবে গাড়িটি ঢুকে পড়ে বাজারে, উঠেছে প্রশ্ন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গাড়িটিতে দুি জন মহিলা ছিল। খাল পাড় দিয়ে বারবার ধাক্কা মারতে মারতে গাড়িটি এগিয়ে আসে। চেকপোস্টে পুলিশ ছিল না। ফলে বিনা বাধায় এগোতে থাকে গাড়িটি।  পর পর ৮ থেকে ১০ জনকে ধাক্কা মারে গাড়িটি। এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। 

 রাস্তা অত্যন্ত খারাপ

সারা রাস্তায় এখন পড়ে কাচের টুকরো।  স্থানীয়দের দাবি, গত ৬ বছর ধরে গাড়ি চলাচল বন্ধ এখানে । চলছে রাস্তার কাজ। রাস্তার অবস্থা গুরুতর। সেখানেই ঢুকে পড়ে গাড়িটি। ধাক্কা মারতে মারতে এসে শেষে একটি স্কুটিতে ধাক্কা মেরে গাড়িটির চাকা লক হয়ে যায়।  ঘটনায় ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। 'এলাকায় রাস্তা অত্যন্ত খারাপ, বছরের পর বছর রাস্তার কাজ হচ্ছে। তারপরেও সরু রাস্তা দিয়ে কীভাবে ঢুকে পড়ল গাড়ি', প্রশ্ন স্থানীয়দের। 

'কোথায় তৃণমূল কাউন্সিলর ?'

সেই সঙ্গে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কাউন্সিলরের ভূমিকা নিয়ে । গাড়িতে সকলে মত্ত অবস্থায় ছিল বলে অভিযোগ প্রত্যক্ষদর্শীদের । চারচাকা গাড়ি যেখানে ঢোকা নিষেধ, বাজারে ঢোকার মুখেই পুলিশের চেক পোস্ট রয়েছে। তারপরও সরু রাস্তায় গাড়ি ঢুকে কীভাবে ধাক্কা মারতে মারতে এল? পুলিশ বা সিভিক ভলান্টিয়ার কোথায় ছিল? প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। ১২৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর ছন্দা সরকার। এত বড় দুর্ঘটনার কথা শুনেও তিনি এলাকায় আসেননি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কাউন্সিলরের প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি। 

কেমন আছেন আহতরা ?

স্থানীয় সূত্রে দাবি, আহতদের কেউ কেউ খুবই আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতাল ভর্তি নিতেও চায়নি। নিয়ে যেতে হয়েছে অন্য হাসপাতালে। বাড়ির লোকেরা আশঙ্কিত, আহত ব্যক্তিরা বাঁচবেন তো ?