কলকাতা: তিলজলায় কারখানায় আগুন, ন্যাশনাল মেডিক্যালে মৃত্যু যুবকের। মৃত ব্যক্তি তিলজলা মসজিদ বাড়ি লেনের বাসিন্দা মহম্মদ ইব্রার। আগেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দমবন্ধ হয়ে ২জনের মৃত্যু হয়। তিলজলায় কারখানায় আগুন, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩। গভীর রাতে মৃত্যু হয়েছে মহম্মদ ইব্রারের। 

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, গ্রেফতার রাজ্যের এই তৃণমূল নেতা !

Continues below advertisement

জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে রাজ্য সরকার

এই ভয়াবহ ঘটনার পর জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর কড়়া বার্তার পরই তিলজলায় শুরু হয়েছে অ্যাকশন। বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে নামানো হয়েছে বুলডোজার। পুলিশ সূত্রে খবর, ৫ তলা বাড়িটির নীচে ২টি গেট।  একেবারে বাঁদিকে, বড় একটি লোহার গেট। এই গেটটি কারখানায় ঢোকা-বেরনোর রাস্তা হলেও, গেটের সামনে ঠাসা থাকে নানা জিনিস। ডানদিকের ছোট কোলাপসিবল গেটে দেওয়া থাকে তালা। 

শৌচাগার থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ৫ শ্রমিককে

পুলিশ সূত্রে খবর, জি জে খান রোডের এই বহুতলের দোতলা ও তিনতলায় চলত চামড়ার কারখানা। মঙ্গলবার এখানেই আগুন লাগে। ঘটনার দিন কারখানার কোলাপসিবল গেট তালা বন্ধই ছিল।কর্মীরা যাতে নজর এড়িয়ে যখন তখন বাইরে চলে যেতে না পারেন, তার জন্য তালা দিয়ে রাখা হত এই গেটটি। প্রচুর পরিমাণ দাহ্য জিনিস মজুত থাকায় নিমেষের মধ্যে আগুন ভয়াবহ আকার নেয়।মেন গেটের কাছে ফোমে আগুন লেগে যাওয়ায় আটকে যায় বেরনোর রাস্তা। ছোট গেটে তালা দেওয়া থাকায় ভেতরে আটকে পড়েন ৫ জনই। পরে কারখানার শৌচাগার থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ৫ শ্রমিককে। 

বুলডোজার

 আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কোনও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকা সত্ত্বেও, ওই বেআইনি চামড়া কারখানায় অতিরিক্ত দাহ্য পদার্থ মজুত করা ছিল। যে কোনও সময় প্রাণহানি ঘটে যেতে পারে জেনেও, উদাসীন ছিল কর্তৃপক্ষ। ৫০ বাই ১ জি জে খান রোডের পাঁচতলা বাড়িতে দু'টি সংস্থার নামে কারখানা চলছিল। কারখানায় আগুন লাগার পর, দায়িত্ব না নিয়ে উল্টে পালিয়ে যায় কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে উঠে আসে, যে বাড়িতে কারখানা চলত, এবং তার পাশের বিল্ডিং- দুটোই অবৈধ। দ্বিতীয় বাড়িটি ভাঙতেও ব্যবহার করা হয় বুলডোজার, অবৈধ বাড়ি ভাঙার কাজে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য এলাকায় মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ।