কলকাতা : কলকাতা জুড়ে ভয়াল দুর্যোগ। মেঘ-ভাঙা-বৃষ্টির অনুরূপ দুর্যোগে ভাসছে মহানগর। আপাতত আবহাওয়ার উন্নতির কোনও খবরই দিতে পারছে না আবহাওয়া দফতর। এরই মধ্যে আজ অর্থাৎ দ্বিতীয়া থেকেই সমস্ত সরকারি স্কুলে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পুজোর ছুটি ঘোষণা করা হল।
স্কুলগুলিতে পুজোর ছুটি শুরু
জানানো হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আজ থেকেই স্কুলগুলিতে পুজোর ছুটি শুরু হয়ে গেল। পাশাপাশি ICSE ও CBSE বোর্ডের স্কুলগুলিকে মঙ্গলবার থেকে অন্তত ২ দিন ছুটি দেওয়ার অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকেও আগামী ২ দিন অনলাইনে ক্লাস করার অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বেসরকারি অফিসগুলিকে আগামী ২ দিন ওয়ার্ক ফ্রম হোম করার অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সম্ভব হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে আগামী ২ দিন ছুটি দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। এই ভয়ানক দুর্যোগের আবহে, আজ স্থগিত করে দেওয়া হয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাও।
শিক্ষামন্ত্রীর কী বার্তা
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারি স্কুলগুলিতে পুজোর ছুটি ঘোষণার পরই শিক্ষামন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, 'কাল থেকেই পুজোর ছুটি। এক অভূতপূর্ব দুর্যোগের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে রাজ্যে। ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর সমস্ত স্কুল ও উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত। ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারিভাবে পুজোর ছুটি পড়ছে। তাই কার্যত কাল থেকেই দুর্গাপুজোর ছুটি শুরু হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মীদের বাড়ি থেকেই কাজ করার আর্জি জানান শিক্ষামন্ত্রী।
কী জানাল পুরসভা
পুজোর দিনগুলোয় বৃষ্টির পূর্বাভাস আগে থাকতেই ছিল। কিন্তু প্রতিপদের মধ্যরাতে বাঁধভাঙা বৃষ্টি প্রথমাতেই যে মহানগরে এমন মহাপ্লাবনের চেহারা নিয়ে হাজির হবে, তা বোধহয় কেউ দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি। কলকাতা পুরসভা সূত্রে দাবি, সাম্প্রতিককালে মুষলধারায় এমন দীর্ঘ টানা বৃষ্টির সাক্ষী হয়নি শহর। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, সোমবার রাতে ৫ ঘণ্টায় রেকর্ড বৃষ্টি হয়েছে শহরে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে গড়িয়ার কামডহরিতে, ৩৩২ মিলিমিটার। তারপরেই রয়েছে যোধপুর পার্ক, ২৮৫ মিলিমিটার। কালীঘাটে কয়েক ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ২৮০ মিলিমিটার। তপসিয়ায় ২৭৫ মিলিমিটার। বালিগঞ্জে ২৬৪ ও চেতলায় ২৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। দুর্যোগের কলকাতায় বিদ্যুৎসপৃষ্ট হয়ে মারা গিয়েছেন বহু মানুষ। জমা জলে বিদ্যুৎসপৃষ্ট হয়ে একের পর এক মৃত্যু হয়েছে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে জমা জলে খোলা তারের বলি হয়েছে আট জন । ২ জেলায় আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।