পার্থপ্রতিম ঘোষ, ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী, কলকাতা: দ্রুত এগোচ্ছে কসবাকাণ্ডের তদন্ত। পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই হুবহু মিলে গিয়েছে নির্যাতিতার বয়ান ও মনোজিতের শরীরের আঁচড়ের দাগ। নির্যাতনের সময় প্রতিরোধেই মূল অভিযুক্তের শরীরে আঁচড়ের ক্ষত তৈরি হয়েছে বলে, মনোজিৎ মিশ্রের মেডিক্যাল টেস্টে এমনই অনুমান চিকিৎসকদের। নির্যাতিতার শরীরে আঁচড়ের চিহ্ন, মেলাতে অভিযুক্তদের DNA টেস্টও করা হচ্ছে। এরই মধ্যে মনোজিৎ সহ ২ অভিযুক্তের কল রেকর্ডস থেকে সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
'গণধর্ষণের' ঘটনার পর থেকে কাদের ফোন করেছিলেন অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র? গ্রেফতার হওয়ার আগে কি ঘটনা সম্পর্কে কাউকে জানিয়েছিলেন তিনি? এটাই জানতে ধৃত ৩ জনের কল ডিটেলস খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ২৫ জুন ওই ন্যক্কারজনক ঘটনার অভিযোগ ওঠে। আর ২৬ জুন নাকি ওই কলেজের ভাইস প্রিন্সিপালের সঙ্গে ফোনে কথা হয় মনোজিতের । অভিযুক্তর সিডিআর থেকে এমনই তথ্য সামনে এসেছে বলে খবর পুলিশ সূত্রে। কিন্তু কী কথা হয়েছে? মনোজিৎ কি তবে ভাইস প্রিন্সিপালের কাছে অপরাধের কথা কবুল করেছিলেন?
এই বিষয়ে দু’ বার ভাইস প্রিন্সিপালকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। সোমবারও বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে ভাইস প্রিন্সিপাল নয়না চট্টোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন SIT-র সদস্যরা। এর আগে এবিপি আনন্দকে ফোনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রাক্তন ছাত্র জানান, ' আমাকে লেক মলের পিছন থেকে কিডন্যাপ করেছিল। এত মেরেছিল যে ভেবেছিল মরে গেছি। রাস্তায় ফেলে চলে গিয়েছিল। পুলিশ প্রথমে আশ্বাস দিলেও কিছু হয়নি...ভয়ে ৯ মাস কলেজ যেতে পারিনি এই মনোজিতের জন্য। ডাইরেক্ট অ্য়াকসেস ছিল। নয়না ম্যাডাম সব ওর কথা শুনতো।' অর্থাৎ এই ভাইস প্রিন্সিপাল সম্পর্কে প্রাক্তনীদেরও অভিযোগ ছিল। 'গণধর্ষণ'-এর ঘটনার পরের দিন, কী নিয়ে তবে মনোজিতের সঙ্গে কথা হয় তাঁর?
অন্যদিকে কসবাকাণ্ডে অশোক দেবের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ঘটনার পর ভাইস প্রিন্সিপ্রাল অশোক দেবকে সব জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, ''সব শুনেও অশোক দেব বলেছেন, আজ ছুটি, সোমবার দেখব। কলেজে এই ঘটনার পরেও কীভাবে একথা বলেন পরিচালন সমিতির সভাপতি?'
কসবাকাণ্ডে দ্রুত চার্জশিট তৈরির নির্দেশ দিয়েছে লালবাজার। মামলার নথি কী অবস্থায় রয়েছে, তা নিয়ে গতকাল SIT-এর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন পুলিশ কমিশনার। ধৃতদের আজ ফের আদালতে তোলা হবে। মনোজিৎ মিশ্র ও কলেজের নাইট গার্ড-সহ ৪ ধৃতকে ফের হেফাজতে নিতে চায় পুলিশ।