কলকাতা: বিধানসভা থেকে সাসপেন্ড কুণাল ঘোষ। আখরুজ্জামান কথা বলার সময় বাধা দেন কুণাল ঘোষ। তারপরই তুমুল হাঙ্গামা শুরু হয় বিধানসভায়। অধিবেশন চলাকালীন মার্শাল দিয়ে বের করে দেওয়া হল কুণাল ঘোষকে। পরে সাংবাদিক বৈঠক থেকে ডামি বিরোধী বলে 'ঋতব্রত শিবির'কে কটাক্ষ করলেন তিনি।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন: লোকসভা থেকে সাসপেন্ড কল্যাণ, তারপরই শমীকের সঙ্গে দেখা শ্রীরামপুরের সাংসদের, বাড়ছে জল্পনা

কুণাল ঘোষ বললেন, "আজ পুলিশ বাজেট। শোভনদা আমার নাম দিয়েছিলেন, ওরা অ্যাপ্রুভ করেনি। আলিফাকে বলতে দিল। আলিফা যে তৈরি হয়ে আসবে, সেটাও সম্ভাবনা নেই, কারণ আলিফা তৈরি হয়ে আসেনি। কেন? যাতে কোনও ধারালো বক্তৃতা পুলিশ বাজেটে না হয়। তার কারণ, বাকি যারা বলবে, তারা তো পোষা। বিজেপির বি টিম। আমি আখরুজ্জামানকে বললাম। আখরুজ্জামান বললেন, কুণালদা, আপনার সঙ্গে আমার সম্পর্ক খারাপ নয়। কিন্তু আমার উপর নির্দেশ আছে। আমি আপনার নামটা দিতে পারব না।"

Continues below advertisement

স্পিকারকে 'ঋতব্রত শিবির'-এর 'গার্জেন' গার্জেন বলেও কটাক্ষ করলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক। কুণাল বললেন, "ডামি বিরোধী দিয়ে, ডামি বক্তা দিয়ে আসল পয়েন্টগুলো অ্যাভয়েড করে ফাঁকা মাঠে গোল দিচ্ছেন? শুনল না, বলল কথা হবে। স্পিকার, ওদের গার্জেন, অনৈতিকভাবে ওদের বিরোধী করেছেন। স্পিকার চিৎকার করে বললন, বসে কথা বলুন, দাঁড়িয়ে কথা বলবেন না। আরে ওখানে আমি কোথায় বসব? ওটা তো ওদের বেঞ্চ।"

আরও পড়ুন: 'আমি তো ওই স্কুলে পড়িনি', সাসপেন্ড হয়েই ক্ষোভ প্রকাশ কুণালের

এদিনের বক্তব্যে কুণাল ঘোষ বলেন, সরকার 'প্রকৃত বিরোধী' চায় না। এ ছাড়াও তাঁর দাবি, 'ঋতব্রত শিবির'-এর কোনও এক বিধায়ক তাঁকে নাকি নিজেদের দলে ডাকেন। কুণাল বললেন, "যাই হোক, তারপর বসে বললাম। তখন ওদের এক সিনিয়র বিধায়ক বললেন, আপনি এখানে চলে আসুন। আপনার বলতে কোনও সমস্যা হবে না। ওই পাঠশালায় তো আমি পড়িনি। বলার জন্য আমি গ্রুপ বদল করব? তারপর আমি বলেছি, অন্যায় ভাবে আমার কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। এটা করছে অনৈতিক ভাবে পাওয়া বিরোধীরা। কিন্তু সরকার এদের নির্দেশ দিচ্ছে ও নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রকৃত বিরোধী চাইছেন না তারা। তারা সাজানো পুতুল চাইছেন।"

এ ছাড়াও তিনি 'ঋতব্রত শিবির'কে বিভিন্ন ভাবে আক্রমণ করলেন বেলেঘাটার বিধায়ক। কুণাল বলেন, "আখরুজ্জামান যখন বলছিলেন, আমি গিয়ে বললাম,আপনি কেন আমার নাম কেটেছেন। তখন বাকিরা এল। স্পিকার সাহেব বলছেন আপনি জায়গায় গিয়ে বসুন। বিজেপির কয়েকজনকে দেখলাম, বি টিমকে আগলে রাখতে কী মরিয়া। দরদ উথলে উঠছে। তারপর স্পিকার বললেন আপনাকে বের করে দেব। তারপর মার্শাল ও তার বাহিনী মিলে আমাকে ঘিরে ধাক্কা দিতে দিতে চ্যাংদোলা করে বের করে দিল। এটা গণতন্ত্র? এসব করে আমাদের কণ্ঠরোধ করা যাবে না। আমাকে আখরুজ্জামান বলতে দেবে না। বলছে উপর থেকে নির্দেশ আছে, একে বলতে দেওয়া যাবে না। উপরটা কে? চাটন নাকি চাটনের রাজনৈতিক বাবা?"