সনৎ ঝা, দার্জিলিং : অবশেষে তিস্তা নদী থেকে উদ্ধার হল সিকিমের চার বাসিন্দার দেহ। তাদের মধ্যে রয়েছে ৫ বছরের এক শিশুও। প্রায় ২ দিন ধরে চলা তল্লাশি অভিযানের পর উদ্ধার হয়েছে এই ৪ জনের দেহ। বিগত কয়েকদিন ধরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে উত্তরবঙ্গে। তার জেরে ধস নেমেছিল রাস্তায়। সেই সময়েই ভয়কর দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয় সিকিমের এই পরিবার। গাড়ি করে আসার সময় ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের কাছে সটান তিস্তা নদীতে পড়ে যায় সিকিমের ওই পরিবারের চার সদস্য। শেষ পর্যন্ত ওই গাড়িটিই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আর তার মধ্যেই ছিল চার সদস্যের নিথর দেহ। মর্মান্তিক এই ঘটনা শুনে শিউরে উঠছেন সকলেই।
জানা গিয়েছে, যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ছিলেন স্মারিকা নিওপানে (২৮), শৈব্যা নিওপানে (২৭), টিকা দাহাল (২৭) এবং দিত্যা ছেত্রী (৫)। এর সকলেই গ্যাংটকের কাবি লাংচক এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। গত শুক্রবার বিকেলে সেবকের করোনেশন সেতু ও কালীঝোড়ার মাঝে ধস নেমেছিল। সেই সময় সিকিম থেকে একটি পরিবার গাড়ি করে শিলিগুড়ি আসছিল। ওই গাড়িটি ধসের কবলে পড়ে। উপর থেকে নেমে আসা পাথরের ধাক্কায় গাড়িটি খরস্রোতা তিস্তা নদীতে তলিয়ে যায়। তারপর থেকে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীরা তল্লাশি চালাচ্ছিলেন তিস্তা নদীতে। রবিবার দুপুরে করোনেশন সেতুর পাশেই তিস্তা নদী থেকে গ্যাংটকের পরিবারের চারজন মৃতদেহ-সহ গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার গ্যাংটকের বাসিন্দা ওই পরিবার গ্যাংটক থেকেই শিলিগুড়ি আসছিলেন। আচমকাই পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এই চারজনের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেন। আচমকা পরিবারের ৪ সদস্য নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় শুরু হয় দুশ্চিন্তা। শেষবার যখন যোগাযোগ হয়েছিল তখন গ্যাংটকের ওই পরিবার রাম্বি এলাকায় ছিল বলে জানা যায়। এরপর শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, পশ্চিমবঙ্গ ট্র্যাফিক পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন, ভলান্টিয়ার এবং এনডিআরএফ- এর তরফে অভিযান চালিয়ে অবশেষে গাড়িটি উদ্ধার হয়। তবে মৃত্যু হয় চারজন যাত্রীরই। জাতীয় সড়ক ১০- এর কাছে সেবক-বাঘপুল এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছিল। যেদিন পরিবারটি নিখোঁজ হয় সেই দিন ওই এলাকায় কাদাধসের জেরে ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় যানবাহন চলাচল। ওই পরিবারের সদস্যদের শেষ মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে তবে তাঁদের গাড়ি এবং দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অনুমান, তিস্তার জলে গাড়িটি পরে যাওয়াতেই মৃত্যু হয় যাত্রীদের।
