কলকাতা: মেসি ইভেন্টে যুবভারতীতে ভাঙচুরকাণ্ডে জামিন পেলেন শতদ্রু দত্ত। ১০ হাজার টাকা ও ২টি সিকিউরিটি বন্ডে শর্তসাপেক্ষে জামিন। জামিনের নির্দেশ বিধাননগর এসিজেএম আদালতের।
আরও পড়ুন, "আমি গদ্দার না, তোমার পিসি ট্রিপল গদ্দার?.." বিস্ফোরক হুমায়ুন ! " বুকের পাটা থাকলে.."
মূলত ফুটবল বিশ্বের কিংবদন্তি মেসি কলকাতা সফরে এসে তিক্ত অভিজ্ঞতার সাক্ষী হন। সল্টলেকের যুবভারতী স্টেডিয়ামে, মেসিকে দেখতে তখন দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা এসেছেন। একবার চোখের দেখা তো দূরের কথা, বরং অনেক টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও মাঠে জটলা দেখা ছাড়া তাঁদের নজরে আসেনি বলে অভিযোগ জানিয়েছিল দর্শক আসন থেকে। মাঠে সেলফির বন্যা শুরু হতেই, প্রিয় মেসিকে চোখের দেখাও অনেকে দেখতে পারেননি। এমনকি বিমানে করেও অনেকে এসেছিলেন এশহরে, তাঁদেরও নিরাশ হয়ে ফিরতে হয় বলে অভিযোগ। এদিকে মেসিকে স্পষ্ট দেখতে না পেয়েই চলে স্টেডিয়ামে ভাঙচুর। মুহূর্তেই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। এরপরেই গ্রেফতার করা হয় শতদ্রু দত্তকে।
গ্রেফতারির পর বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হলে, আয়োজক শতদ্রু দত্তর আইনজীবী দ্যুতিময় ভট্টাচার্য জামিনের পক্ষে সওয়াল করে বলেছিলেন, তাঁর মক্কেলকে এই মামলায় অন্যায়ভাবে অপরাধী করা হয়। তিনি ইভেন্ট ম্যানেজার। তিনি কেন দায়বদ্ধ হবেন? আগেও তিনি অনেককে এনেছেন। মেসির কাছে তাঁর নাম খারাপ হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে আইনজীবী অমিতাভ লাহা বলেছিলেন, উনি (শতদ্রু দত্ত) ইভেন্টের আয়োজন করেছেন। কে সামনে থাকবে, কে সামনে যাবে, সেটা ঠিক করবেন আয়োজকরা। FIR-এ বলা হয়েছিল মেসি যখন মাঠে ঢোকেন, আয়োজকরা মাঠে ঢুকে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। যে কারণেই গ্য়ালারি থেকে কিছু দেখা যাচ্ছিল না। তারা নিজেরা লোকজন দিয়ে ঘিরে রেখেছিলেন। তাই দর্শকরা কিছু দেখতে পাননি। কোনও পরিকল্পনা ছিল না। দর্শকদের (মেসিকে) দেখানোর দায়িত্ব আয়োজকদের। ঘটনায় সেবার বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী এই ঘটনায় আহত হয়েছিলেন।
অপরদিকে, শুনানিতে শতদ্রু দত্তর আইনজীবী, জামিনের পক্ষে সওয়াল করে বলেছিলেন, ৭ নভেম্বর বিধাননগর পুলিশ অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়। পুলিশ কমিশনারের থেকেও NOC পাওয়া গিয়েছিল। ভিড় ম্যানেজমেন্ট, ট্রাফিক কন্ট্রোল, এগুলো পুলিশের দায়িত্বে ছিল। কিন্তু যা হল তাতে তদন্ত প্রয়োজন। এই গ্রেফতারি বৈধ নয়! টিকিটে শর্ত ও নিয়মাবলি যা দেওয়া হয়েছিল কোনওটাই ভাঙা হয়নি। Z ক্যাটিগরি সিকিউরিটি দেওয়া হয়েছিল মেসিকে। ভারতের অন্য জায়গায় অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে হয়েছে। তদন্ত 'তথ্য ভিত্তিক' হোক 'মন খারাপের' ওপরে নয়। শতদ্রু দত্তের মেডিক্যাল ইস্যু আছে। জামিনের আবেদন করছি। অবশেষে জামিন পেলেন শতদ্রু দত্ত।
