কলকাতা: বিধাননগর স্টেশনে লোকাল ট্রেনে আগুন। আতঙ্কে আতঙ্কে যাত্রীরা। ৪ নং প্ল্যাটফর্মে হাবরা লোকালের ইঞ্জিনের নীচের ব্যাটারে বক্সে আগুন ধরে যায়। স্থানীয়দের তৎপরতায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। রেললাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ট্রেনের নীচের অংশে আচমকাই আগুন ধরে যায়। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারিদিক। সেই পরিস্থিতিতে হুলস্থুল পড়ে যায় কার্যত। আতঙ্ক ছড়ায় যাত্রীদের মধ্যে। (Fire in Train)
বুধবার বিকেলের ঘটনা। ঘটনাস্থল থেকে যে ভিডিও সামনে এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছে, ট্রেনের ইঞ্জিনের নীচে যে ব্যাটারি বক্স রয়েছে, সেটি দাউদাউ করে জ্বলছে। সেই অবস্থায় স্থানীয়রা যেমন ছুটে আসেন, ছুটে আসে রেল পুলিশও। অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র নিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয়। ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়েছিল ট্রেনটি। অগ্নিকাণ্ডের জেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান যাত্রীরা। ট্রেনটির কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও পর্যন্ত পরিষ্কার নয়। (Bidhannagar Station Train Fire)
আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়তে এদিন হুড়োহুড়ি পড়ে যায় স্টেশন চত্বরে। ট্রেন থেকে নেমে আসেন যাত্রীরা। ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনায় এদিনের ঘটনা নতুন সংযোজন। কারণ কয়েক দিন আগেই পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া স্টেশমে একটি ট্রেনে আগুন ধরে যায়। একটি কামরায় আগুন লেগে গিয়েছিল সেবার। চোখের সামনে কামরাটি দাউদাউ করে জ্বলতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। আগুনের লেলিহান শিখায় কার্যত ভস্মীভূত হয়ে যায় ট্রেনের কামরাটি। সেবার শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন ধরে বলে উঠে আসে। এদিন বিধাননগর স্টেশনে ট্রেনে কী করে আগুন লাগল, তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি।
গতবছর মে মাসে মালদাগামী গাইসাল ট্রেনের ইঞ্জিনেও আগুন ধরে। শিলিগুড়ি থেকে মালদা যাওয়ার পথে ট্রেনের পিছনের ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। চালককে ফোন করে সেকথা জানান এক কর্মী। সেই মতো ট্রেন থামিয়ে দেওয়া হয়। আগুনের কথা জানাজানি হতে হুড়মুড় করে ট্রেন থেকে নামতে শুরু করেন যাত্রীরা। ভয়াবহ আগুনে ইঞ্জিনটি সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। তবে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি সেবার।
গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসেই আবার শিয়ালদা স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা নৈহাটি লোকালে আগুন ধরে যায়। ভোররাতে ওই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ট্রেনের কামরার ওপরে প্যান্টোগ্রাফ, ওভারহেড তার স্পর্শ করতেই আগুনের ফুলকি চোখে পড়ে। বিষয়টি চোখে পড়ে রেলকর্মীদের। সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। সেবারও প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। ট্রেনটিকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, পরিবর্তে আনা হয় বিকল্প রেক। কিন্তু বার বার লোকাল ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।