কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জ্বালা এবার টের পাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ। রান্নার গ্য়াস সিলিন্ডারের জন্য় শুরু হয়েছে কার্যত হাহাকার। গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরদের অফিসে পড়ছে লম্বা লাইন। এই প্রেক্ষাপটে তীব্র গ্যাস সঙ্কট, কলকাতার ইসকন মন্দিরে। 

Continues below advertisement

একাধিক পদের বদলে ৩ বেলা শুধু খিচুড়ি রান্নার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আপাতত। কলকাতা ইসকন মন্দিরে আর ২ থেকে ৩ দিনের গ্যাস মজুত রয়েছে। তবে, নতুন স্টক না এলে ৩ বেলা ভোগ নাও দেওয়া যেতে পারে, আশঙ্কাপ্রকাশ মন্দিরের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমণ দাসের। 

এদিকে, গ্যাসের অভাবে সঙ্কট দিঘার জগন্নাথ মন্দিরও। প্রতিদিন মন্দিরে ৩ হাজার লোকের খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে ৩ হাজারের বদলে গড়ে ৭৫০ লোকের খাবারের আয়োজনের সিদ্ধান্ত। 

Continues below advertisement

যুদ্ধ চলছে পশ্চিম এশিয়ায়। তার খেসারত দিতে হচ্ছে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা পশ্চিমবঙ্গকেও। শুধু পশ্চিমবঙ্গই বা কেন, গোটা দেশের আমজনতাকে। একটা গ্যাস সিলিন্ডারের জন্য এখন ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে হাহাকার। ব্যাপক সমস্যায় পড়েছেন গৃহস্থরা। প্রতিদিনের রান্না হয় গ্যাসে। সেই গ্যাস সিলিন্ডারের জন্য এখন হাহাকার পড়ে গেছে। ফোনে গ্যাস বুক করতে গেলে, যোগাযোগই করা যাচ্ছে না।  আতঙ্কে অনেকে ছুটে যাচ্ছেন গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের অফিসে। সেখানেও সমস্যার কোনও কিনারা হচ্ছে না।                                                

দিন যত এগোচ্ছে ততই ভয়ঙ্কর হচ্ছে যুদ্ধ পরিস্থিতি। এই আবহেই গ্যাসের জোগানে টান পড়েছে। এই আবহে রান্নার গ্যাসের পর্যাপ্ত যোগান না থাকায় ব্য়াহত কলকাতা পুরসভার মা ক্যান্টিনের রান্না।

এদিকে, LPG সঙ্কটে বন্ধ হতে বসেছে বাঙালির প্রিয় মিষ্টির দোকানগুলিও। কাটোয়ার ১০০ বছরের পুরনো পরানের ক্ষীরের মিষ্টির দোকানেও দেখা দিয়েছে সিলিন্ডার সঙ্কট। একই ছবি আলিপুরদুয়ারের মিষ্টির দোকানেও। অন্যদিকে হাওড়া স্টেশন চত্বরের হোটেলগুলিতেও দেখা দিয়েছে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের সঙ্কট। 

LPG সঙ্কটে শুধুমাত্র হোটেল বা ঘরের হেঁশেলেই প্রভাব পড়েছে এমন নয়। শিলিগুড়িতে বন্ধ রাখতে হচ্ছে রট আয়রন আসবাবের দোকানও।  আসবাব রঙ করার সময় ব্যবহার করা হয় LPG। কিন্তু সঙ্কটের জেরে রঙের কাজও বাধ্য হয়ে বন্ধ রাখতে হয়েছে।