পার্থপ্রতিম ঘোষ, কলকাতা: গ্যাসের আকাল, হেঁসেলে হাঁড়ি চালাতে নাজেহাল অবস্থা। কীভাবে খাবার তৈরি হবে, কীভাবে সমস্যা মিটবে এই ভেবে ভেবেই দিশেহারা রেস্তোরাঁগুলি। গ্যাসের সঙ্কট না মিটলে বিকল্প জ্বালানির কথাও ভাবা হচ্ছে। এই সব ভেবেই এবার কলকাতার জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ আরসালানে (পার্ক সার্কাস) কাঠেই রান্না হচ্ছে বিরিয়ানি।
এবিপি আনন্দের ক্যামেরায় ধরা পড়ল কিছু দৃশ্য। খাদ্যরসিকদের চাহিদা মেটাতে একের পর এক বিরিয়ানির হাঁড়ি আসছে, নিপুণ হাতে সার্ভ হচ্ছে প্লেটে, সার্ভ হচ্ছে অনলাইন ডেলিভারিতেও। কিন্তু কীভাবে চলছে এই কাজ? কী পরিস্থিতি সেখানে?
আরসালানের ম্যানেজার এবিপি আনন্দকে বলেন, 'গ্যাসের যা পরিস্থিতি আমাদের বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবতেই হয়েছে। কিছুটা কাঠের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কাঠের আঁচেই বিরিয়ানি করা হয়েছে। আগে গ্যাসে ছোট হাঁড়িতে বিরিয়ানি তৈরি করেছি। কিন্তু আজ ৮০-৯০ প্লেট একসঙ্গে করার জন্য বড় হাড়িতে বিরিয়ানি করতে হয়েছে। ডিস্ট্রিবিউটর গ্যাস দিতে পারছে না এখন। বাইরে থেকেও কিনছি। কাঠে করার ফলে অনেকটা সময় বেশি লাগছে। এখন যে গ্যাস কিনতে হচ্ছে তা বাজারমূল্য থেকে অনেকটা চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। তবে বিরিয়ানির স্বাদ অনেকটা বেড়েছে যেহেতু কাঠে রান্না করা হচ্ছে। তবে আমরা ক্রেতাদের কথা ভেবে যোগানটা রেখে যাচ্ছি'।
এদিকে, গ্যাসের সঙ্কটের কারণে ডেকার্স লেনে ১০ থেকে ১২টি দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। মেনুতে খাবারের পদ কমিয়ে দিয়েছে বহু দোকান। ডেকার্স লেনে প্রতিদিন ৫০০ ফিশফ্রাই বিক্রি হয়। গ্যাসের সঙ্কটের জেরে ১৫০ ফিশফ্রাই বিক্রি হচ্ছে গড়ে। চাহিদা থাকলেও জোগান দিতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। ব্ল্যাকে অমেক বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি ১৯ কেজির বানিজ্যিক সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ টাকা দিয়ে। চিত্তবাবুর দোকান সহ অনেক খাবারের দোকানে কয়লা মজুত করে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও সিলিন্ডারের জন্য ডিসট্রিবিউটরের অফিসের হত্যে দিয়ে থেকেও শূন্য হাতেই ফিরতে হচ্ছে। ৪, ৫ দিন চেষ্টা করেও অনলাইনে গ্যাস বুক করা যাচ্ছে বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। এক ডিস্ট্রিবিউটর সূত্রে খবর, বহু লোক একসঙ্গে চেষ্টা করার ফলে অনলাইন বুকিং-এ সমস্যা হচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে হোয়াটসঅ্যাপ, সংস্থার অ্যাপ, কাস্টমার সার্ভিস পোর্টালে সন্ধে ৬টার পরে গ্যাস বুক করার পরামর্শ দিচ্ছেন ডিসট্রিবিউটররা।
