কলকাতা: মিড ডে মিল। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত স্কুলে এই খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল সরকারের তরফ থেকেই। ছাত্রছাত্রীদের স্কুলমুখী করার জন্য। তবে বর্তমানে LPG সঙ্কটের কোপ পড়েছে পড়ুয়াদের এই মিড ডে মিলের প্লেটেও। জেলার স্কুলগুলিতে নিয়মিতভাবে রান্না হলেও, কলকাতার অধিকাংশ সরকারি স্কুলে রান্নার ব্যবস্থা নেই। সেই কারণেই এই সমস্ত স্কুলগুলিতে রান্না করা খাবার আসে কমিউনিটি কিচেন থেকেই। কিন্তু এলপিজি আকালের জেরে মিড ডে মিলের মেন্যুতে এসেছে বদল।

Continues below advertisement

গড়িয়াহাটের কমিউনিটি কিচেনে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, এখানে এদিন পড়ুয়াদের জন্য রান্না হওয়ার কথা ছিল ভাত আর সয়াবিনের তরকারি। কিন্তু অপ্রতুল LPG। সেই কারণে নির্দেশ এসেছে, এক পদে রান্না সারতে। ভাত আর ডাল একসঙ্গে সিদ্ধ হবে, রান্নাও হয়ে যাবে তাড়াতাড়ি। বাঁচবে গ্যাস। সেই কারণেই মেন্যু থেকে বাদ পড়েছে সয়াবিনের তরকারি। অন্যদিকে গতকালই কলকাতার একাধিক স্কুলে পড়ুয়াদের ডিমসিদ্ধ নিয়ে কোনোমতে সামাল দেওয়া গিয়েছে পরিস্থিতি। তবে এইভাবে রান্নার গ্যাসের আকাল চললে আগামীদিনে কীভাবে চলবে মিড ডে মিল, সেটা ভাবাচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

শুধু স্কুল নয়, সমস্যায় পড়েছেন অফিসে কর্মরত কর্মীরাও। যাঁরা রোজ অফিস যান, অনেকের ক্ষেত্রেই ভরসা অফিস পাড়ার খাবারের দোকান। কম দামে, মনের মতো খাবার এখানে মেলে সহজেই। অধিকাংশ জায়গাতে রান্নাও প্রায় ঘরের মতোই। সেই কারণে অফিস পাড়ায় খাবার দোকানগুলিতে বিক্রি ও নয় প্রচুর। ভাতের হোটেলগুলিতে ভাতের সঙ্গে নিয়মিত রান্না হয় একাধিক পদ। বিভিন্ন ক্রেতার জন্য মাছ, মাংস, ডিম.. সবই রাখতে হয়। তবে গ্যাস সঙ্কটে জেরবার সেক্টর ফাইভের অফিসপাড়ার খাবারের দোকানগুলি। বেশ কিছু খাবারের দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন মালিকরা।

Continues below advertisement

অন্যদিকে, রান্নার গ্যাসের সঙ্কটে ভুগছেন নন্দীগ্রামের বাসিন্দারাও। আগে থেকে বুক করেও কিছু মিলছে না। সকাল সকাল খালি সিলিন্ডার নিয়ে গ্রাহকরা হাজির ডিস্ট্রিবিউটর অফিসে। পাশাপাশি এ ও অভিযোগ উঠছে যে অধিকাংশ সময়েই বুকিং করা যাচ্ছে না গ্যাস। অনলাইনে বুকিং নিলেও, বোঝা যাচ্ছে না কবে ডেলিভারি দেবে। সেই কারণে, শহর থেকে জেলা, অনেকেই ভিড় জমাচ্ছেন গ্যাসের ডিস্ট্রিবিউটরের অফিসে। মিসড কল বা অনলাইনে বুকিং অনেক সময়ে না করা গেলেও, মোটের ওপর কাজ করছে ফোন পে বা গুগল পে-র গ্যাস বুকিং অপশন। অনেকে এইভাবে চেষ্টা করে ফল ও পাচ্ছেন।