উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : রাজনীতির খেলা বোঝা বড়ই কঠিন। কখন কে কোন পক্ষ, তার হিসেব মেলানো জটিলই। মমতা-তৃণমূলেই রয়েছেন বলে নির্বাচন কমিশনকে ইমেল করে অবস্থান স্পষ্ট করলেন মগরাহাট পশ্চিমের বিধায়ক শামিম আহমেদ। অথচ এই শামিম আহমেদই কিন্তু বিধানসভা ভোটের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী হয়েছিলেন। তাঁকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করার সমর্থনে একটি সই তাঁরও ছিল। কিন্তু এখন তিনি অভিষেকের পাশে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে। একথা একেবারে কমিশনকে চিঠি লিখে জানিয়ে দিলেন এই বিধায়ক।
নির্বাচন কমিশনকে মগরাহাট পশ্চিমের বিধায়ক শামিম আহমেদ জানিয়ে দেন, বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের তরফে যদি তাঁর নামে কোনও হলফনামা জমা দেওয়া হয় সেটি যেন উপেক্ষা করা হয়। কারণ তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে হলফনামা দিয়েছেন।
ভোটের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন মগরাহাট পশ্চিমের বিধায়ক শামিম আহমেদ। বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে যে বিধায়করা সই করেছিলেন সেখানেও তাঁর নাম ছিল। তবে বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দেখা যায়। তারপর রাতেই নির্বাচন কমিশনকে ইমেল করে শামিম আহমেদ জানিয়ে দেন, তিনি মমতা-তৃণমূলের সঙ্গে আছেন।
গত অগাস্টেই ঋতব্রত-তৃণমূল' ছেড়ে 'মমতা অনুগামী তৃণমূল'-এ যোগ দেন আমডাঙার বিধায়ক কাসেম সিদ্দিকি। 'মমতার সঙ্গেই আছি', বলে সাংবাদিক বৈঠকে বসে দাবি করেন আমডাঙার বিধায়ক কাসেম সিদ্দিকি। তিনি দাবি করেন, 'ভুল বুঝিয়ে ঋতব্রত তৃণমূল-এ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, হয়েছিল সাময়িক বিভ্রান্তিও'। মমতা অনুগামী তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষের সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠক করে দাবি আমডাঙার বিধায়কের। তখনই কুণাল ঘোষ দাবি করেন, 'কালীঘাট তৃণমূল-এর সঙ্গেই আছে সংখ্যাগরিষ্ঠ তৃণমূল বিধায়ক, প্রয়োজনে গোপন ব্যালটে ফ্লোর টেস্ট হোক' !
বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে ঋতব্রত শিবিরের দিকে যোগ দেওয়ার ঢল নেমেছিল। তবে তার বিপরীত গতিও মাঝেমধ্যে দেখা যাচ্ছে। ঋতব্রত তৃণমূল ছেড়ে অনেকেই মমতা শিবিরে যোগ দিচ্ছেন। এরও আগে বসিরহাট উত্তরের বিধায়ক তৌসিফুর রহমান এবং বারুইপুর পূর্বের বিধায়ক বিভাস সর্দার ফেরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরে শিবিরে।
আরও পড়ুন : আজ ধনতেরস, ঠিক আগে কত হল সোনা-রুপোর দাম? আজ কোন সময় কেনাকাটির জন্য শুভ?
