কলকাতা: নজিরবিহীন নৈরাজ্যের ছবি মহেশতলায়। গোষ্ঠী সংঘর্ষে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল রবীন্দ্রনগর এলাকা। পুলিশকে লক্ষ্য় করে উড়ে এল ইট, পাথর। থানার অদূরে আগুন লাগানো হল বাইকে। স্থানীয় বেশ কয়েকটি দোকান ও বাড়িতেও চলল ভাঙচুর। আহত হলেন একাধিক পুলিশ অফিসার। রেহাই পেলেন না মহিলা কনস্টেবলও।
রক্তে ভিজে যাচ্ছে পুলিশ অফিসারের উর্দি। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে পুলিশের বাইকে। ভাঙচুর চালানো হয়েছে পুলিশের গাড়িতে। মহেশতলায় বেনজির নৈরাজ্যের ছবি! ধুন্ধুমার, উত্তাল পরিস্থিতি, ২ গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদের জেরে, তুমুল সংঘর্ষ মহেশতলায়। পুলিশকে লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু পাথর, ইট।
স্থানীয় সূত্রে খবর, দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে, মহেশতলার রবীন্দ্রনগরের এই এলাকায়, ২ গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষের জেরে এলাকার একাধিক বাড়িতে তাণ্ডব চালানো হয়। ভাঙচুর চালানো হয় রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িতে। একটি গাড়ি নয়, একাধিক গাড়ি ভাঙচুর। একের পর এক বাড়ির জানলার কাচ ভাঙচুর।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে শুরু হয় ইঁটবৃষ্টি, পাথর ছোড়া। রেহাই পাননি মহিলা কনস্টেবলরাও। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাল্টা টিয়ার গ্যাসের সেল ছোঁড়ে পুলিশ। লাঠিচার্জ করতে হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গোটা এলাকা বিশাল বাহিনীতে মুড়ে ফেলা হয়।
মহেশতলায় অশান্তির ঘটনায় কলকাতা পুলিশ ১৪ জনকে এবং রাজ্য পুলিশ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। যদিও এই ভয়ঙ্কর তাণ্ডবের পরেও তৃণমূল বিধায়ক বলছেন বিক্ষিপ্ত ঘটনা। তবে পুলিশকর্মীদের পাশাপাশি, তিনিও মেনে নিয়েছেন, পর্যাপ্ত বাহিনী না থাকাতেই নাকাল হতে হয় পুলিশকে। এদিকে, মহেশতলাকাণ্ডে ভবানী ভবনে গিয়েও ডিজির দেখা পেলেন না শুভেনদু। আধা সেনার দাবি। বিধানসভা অচলের হুঁশিয়ারি। রাষ্ট্রপতি শাসন চেয়ে রাজভবনে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন।
মহেশতলার এই ঘটনা করিয়ে দিচ্ছে এপ্রিলে ভাঙড়ের শোনপুরের ঘটনা। যেখানে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল পুলিশের একের পর এক বাইকে। তার আগে মুর্শিদাবাদেও। আক্রান্ত হয় পুলিশ। পোড়ানো হয় একে পর এক পুলিশের গাড়ি। হামলা থেকে বাঁচতে একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে আশ্রয় নিতে হয় পুলিশকে। এবার সেই অশান্তির ছবি দেখা গেল মহেশতলায়। ফের অসহায়-আক্রান্ত পুলিশ।