Malda News: এক শিক্ষিকাকে ছুটি না দেওয়া নিয়ে গন্ডগোল। আর তার জেরেই মালদার হবিবপুরে স্কুলে ঢুকে তৃণমূল নেতার ‘দাদাগিরি‘। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আঙুল উঁচিয়ে হুঁশিয়ারি দিলেন শাসকদলের শ্রমিক নেতার। ওই শ্রমিক নেতা স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনা ঘটেছে, হবিবপুরের বুলবুলচণ্ডী আর এন রায় বিদ্যানিকেতনে। শিক্ষিকাকে হুমকির ছবি ভাইরাল হওয়ার পর শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এই ঘটনায় আতঙ্কে ভুগছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা। জেলা স্কুল পরিদর্শক ও হবিবপুরের BDO-কে অভিযোগ জানিয়েছেন এই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা।
স্কুলে ঠিক মতো পঠনপাঠন হচ্ছে না, এই নিয়ে প্রশ্ন করায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকাই দুর্ব্যবহার করেছেন, এমনই সাফাই দিয়েছেন স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি এবং শাসকদলের ওই শ্রমিক নেতা। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ঝুম্পা মজুমদার জানিয়েছেন, তাঁকে এবং তাঁর অন্যান্য সহকর্মীদের যেভাবে অপমান করা হয়েছে, আক্রমণ করা হয়েছে, তাতে তাঁরা প্রত্যেকেই আতঙ্কিত। এমনকি আতঙ্কে ভুগছে ছাত্রীরাও। মিড ডে মিল নিয়ে কারচুপির অভিযোগ তোলা হয়েছে এই ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। এই বিষয়ে ঝুম্পা মজুমদার জানিয়েছেন, তাঁদের এলাকায় এই স্কুলেই সবচেয়ে ভাল মিড ডে মিল পরিষেবা রয়েছে। শিক্ষিকার দাবি, একথা ব্লক থেকেও তাঁকে জানানো হয়েছে। যাঁরা মিড ডে মিলের দায়িত্বে রয়েছেন, রান্না করেন, এখানে খাবার খান, তাঁরাও একথা বলেন। শিক্ষিকারা সকলে মিলে খুব ভালভাবে মিড ডে মিল চালান এখানে, বলছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা।
অন্যদিকে, স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি, যিনি আঙুল উঁচিয়ে শাসাচ্ছেন বলে সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, তিনি উল্টে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধেই একগুচ্ছ অভিযোগ এনেছেন। ওই ব্যক্তির অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ আদতে ভিত্তিহীন। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকাই নাকি 'ধমক-চমকে' রাখেন সকলকে। ওনার স্বার্থে ঘা লেগেছে বলেই উনি এমন অভিযোগ করেছেন। স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি বলছেন, 'যাঁরা মিড ডে মিল রান্না করেন, তাঁদের জিজ্ঞাসা করলেই জানতে পারবেন, সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৩৫ কেজি বা ৪০ কেজি চাল রান্না হয়। আর খুব বেশি হলে এক থেকে দেড় হাজার টাকার সবজি রান্না হয়। টোটালটাই উনি মোনোপলি ব্যবসা করেন। উনি ধমকে চমকে গোটা স্কুল চালাতে চান, দীর্ঘদিন চালিয়ে এসেছেন। চুরি বন্ধ করে দেওয়ায় মাথা খারাপ হয়ে গেছে। ওনার মতো করে স্কুল চালাতে পারছেন না। ম্যানেজিং কমিটিকে হাতে রাখতে চেয়েছিলেন।'