বিধানসভা ভোটের মুখে এবিপি আনন্দের মুখোমুখি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  মুখ্যমন্ত্রীর তিরিশের বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িতে এবিপি আনন্দর এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট সুমন দে। কথায় কথায় ফিরে যাওয়া অতীতের ধুলো পড়া অ্যালবামে। ফিরে দেখা রাজনীতির পুরনো অধ্যায়।  এ রাজ্যের তিনদশকের বিরোধী নেত্রী তিনি। ভেঙে দিয়েছিলেন লাল দুর্গের অহমিকা। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কীভাবে বদলে গিয়েছিল, তাও জানালেন তিনি নিজেই। জানালেন, শেষের দিকে জ্যোতি বসুর সঙ্গে সম্পর্ক যথেষ্ট ভাল হয়েছিল তাঁদের ৷ নন্দীগ্রাম কিংবা সিঙ্গুরকাণ্ডের সময়ও কথা হত তাঁদের সঙ্গে। এবিপি আনন্দর সঙ্গে কথোপকথনে জ্যোতি বসুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক প্রসঙ্গে বললেন নানা কথা । কেউ বিরোধী দলের হলেও, প্রবীণদের প্রতি সম্মান জানানোটাই যে রীতি, একসময় জ্যোতি বসুকে প্রণাম করার বিষয়ে, বললেন এমনটাই। সেই সঙ্গে জ্যোতি বসুর শেষবেলায় তাঁর পার্টির লোকেদের সঙ্গেই কেমন সম্পর্ক ছিল, তা নিয়েও কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী। সুমন দে : জ্যোতিবাবুকে পরে দেখেছি আপনার সম্পর্কে যথেষ্ট স্নেহশীল ...

Continues below advertisement

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় : আমাকে ডেকে পাঠালেন একদিন। তিন চার বার গেলাম। কিন্তু গৌতম দা বসে থাকত সারাক্ষণ পাহারা দিয়ে। আমি কী কথা বলছি , না বলছি শুনবে। লাস্ট উনি যে বছর মারা গেলেন...সে বছর আমি ত্রিবান্দ্রম গিয়েছিলাম, দিল্লি গিয়েছিলাম। তার আগে উনি আমাকে বলেছিলেন, আমার জন্মদিন আছে ৮ তারিখে, আপনি যেখানেই থাকুন, আমার জন্মদিনের দিনটা কিন্তু আপনি আসবেন। ত্রিবান্দ্রম থেকে চেন্নাই এলাম। চেন্নাই থেকে কলকাতা এলাম। আরেকটা কথা আমার মনে আছে, উনি আমায় অনেক সময় বলতেন, এরা যাবে কবে ! 

সুমন দে : কী বলছেন !

Continues below advertisement

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় : হ্যাঁ ঠিক বলছি। 

সুমন দে :  বুদ্ধবাবুর সরকার কবে যাবে, জ্যোতিবাবু জিগ্যেস করছেন ! 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় : হ্যাঁ,  সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের আন্দোলনের সময় আমায় বলেছিলেন । দুই হচ্ছে আরেকটা কথা। যেদিন ওঁর স্ত্রী মারা গেলেন, আমি তখন মিটিং করছিলাম। ইলেকশনের প্রচার বা কী একটা চলছিল, সম্ভবত । আমি জাভেদ খানের এলাকায় ছিলাম। তখন হঠাৎ আমি শুনলাম কমল দেবী মারা গিয়েছেন। আমি ছুটে গেলাম। সেদিন বাড়িতে কেউ ছিল না। উনি নিজেই গেটটা খুললেন। বললেন, আপনি এসেছেন? জানেন তো , অনেকদিন একসাথে ছিলাম। এই মাত্র বডিটা নিয়ে যাওয়া হয়েছে ক্যাওড়া তলা শ্মশানে। আমি সঙ্গে সঙ্গে ক্যাওড়াতলা শ্মশানে গেলাম। সেদিন সোমনাথ চ্যাটার্জি আর ওঁর ছেলে ছাড়া আর কেউ ছিল না। 

সুমন দে : তখন কোথাও বোধ হয় সৌজন্যের ....

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় : জ্যোতিবাবু ক্ষমতায় থেকে চলে যাওয়ার পরে ওদের মনে হয় সম্পর্কটাই হারিয়ে গিয়েছিল । মানে দলের মূল স্রোত থেকে। এটাই বোধ হয় হয় ! কিন্তু এটা হওয়া উচিত নয়। মানুষ মানুষকে মনে রাখে মানুষকে ভালবেসে।

সুমন দে : আর ক্ষমতা চেয়ার এগুলো ক্ষণস্থায়ী। থাকে হচ্ছে সম্পর্ক। 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় : মনুষ্যত্ব না থাকলে কোনও চেয়ারেরই কোনও দাম নেই।  

সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি দেখুন-