কলকাতা: বিরোধী নেত্রী হিসেবে তাঁর সুর ছিল চড়া। সরকারের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতেন ঠিক-ভুলের হিসেব। পশ্চিমবঙ্গ হোক কিংবা দিল্লি, বিরোধী নেত্রী হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিবাদ শিরোনামে এসেছে বারংবার। সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ সরকারে। সেই প্রসঙ্গে উঠে এল সৌজন্য-সাক্ষাৎ-আগামীর কথা। এবিপি আনন্দয় মুখোমুখি মুখ্যমন্ত্রী। দেখা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে, না-দেখা আঙ্গিকে।
সুমন দে: আপনি ১৫ বছর মুখ্যমন্ত্রী, কিন্তু এর আগে অত দশক ধরে সরকারকে বিরোধী নেত্রী হিসেবে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন, সেই লড়াই, সেই যুদ্ধ মিস করেন এখন?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: আজকে তো তার থেকেও বেশি লড়াই করতে হচ্ছে। আজকে সরকারে থেকেও আমরা প্রধান বিরোধী দলে পরিণত হয়েছি। বিজেপির এক একটা নেতা ২০টা করে গাড়ি, সিআরপিএফ, বিএসফ কনভয় নিয়ে লাটসাহেবি করে বেড়াচ্ছে। কিছু হলে কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে অত্যাচার চালাচ্ছে। যেদিন ক্ষমতায় এসেছে ২০১৪ থেকে অত্যাচারিত। সিপিএম এর আমলে একরকম অত্যাচার ছিল। এঁদের আমলে মানসিক অত্যাচার, নির্যাতন। টাকা বন্ধ। কী নয়। আজ মানুষকে ভাল রাখতে গিয়ে আমাকে প্রতিদিন নানা সঙ্কটের সঙ্গে লড়াই করতে হয়।
প্রশ্ন: দিদি, বিরোধী নেত্রী হিসেবে আপনি একটা আইকনিক জায়গায় ৩০ বছর ধরে লড়াই করে গিয়েছেন। জ্যোতিবাবু-বুদ্ধদেব বাবুদের কঠিন লড়াইয়ে ফেলেছিলেন। আজ আপনার যারা বিরোধী তাঁদের কারওকে দেখে মনে হয় এঁদের সম্ভাবনা আছে লড়াকু নেতা-নেত্রী হওয়ার?
উত্তর: এখনের সবটাই ন্যারেটিভ আর নেগেটিভ। কনস্ট্রাকটিভ কিছু নেই। সবটাই ধ্বংসাত্মক। আমি বিরোধী দল করলেও জ্যোতিবাবুর বাড়িতে বারবার ছুটে যেতাম। ক্ষমতায় ছিলেন না, কিন্তু দেখতে যেতাম। বুদ্ধদেব বাবু যখন অসুস্থ আমি রোজ ছুটে যেতাম। বিমান বাবুর সঙ্গেও কখনওসখনও যোগাযোগ হয়। অনিল বিশ্বাস ফোনে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন একটা ঘটনায়।
প্রশ্ন: রাজনীতিতে কি সৌজন্য হারাচ্ছে?
উত্তর: এখন রাজনীতিতে সৌজন্য বলে কিছু নেই। এখন যে যাঁর নিজের মতো। এজেন্সি রাজ, কথা বলতেই ভয় পায়। ফোনে পেগাসাসের ভয়।
সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি দেখুন-