Abhishek Banerjee: আজ ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে (Dharmatala Metro Channel) ধর্নায় বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্নামঞ্চে উপস্থিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের প্রথম সারির একাধিক নেতা-নেত্রী। মমতা বন্দ্যোপধ্যায়ের পাশাপাশি এসআইআর ইস্যু (SIR Issue) নিয়ে এর আগেও সুর চড়িয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজকের ধর্নামঞ্চ থেকে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে তোপ দেগেছেন তিনি। 

Continues below advertisement

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "তৃণমূল কংগ্রেসের মা মাটি সরকারের রাষ্ট্রমন্ত্রী গোলাম রব্বানীর নাম আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন। শশী পাঁজার (Sashi Panja) নাম আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন। কাজল শেখের (Kajal Sheikh) নাম আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন। ময়নাগুড়ির বিডিও-র নামও আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন। মুর্শিদাবাদের বিধায়ক কংগ্রেস প্রতীক চিহ্নে নির্বাচিত হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছে বায়রন বিশ্বাস - তার নামও আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন। আমাদের বক্তব্য খুব সহজ, ৬০ লক্ষ মানুষের নাম যদি আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন থাকে তাহলে নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) চেয়ারটাও আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন থাকবে। এই ৬০ লক্ষ মানুষ ২০২৪ সালে লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছে। এই ৬০ লক্ষ মানুষ ভারতবর্ষের মন্ত্রিসভায় কে কোথায় বসবেন ঠিক করেছে। এই ৬০ লক্ষ মানুষ পরোক্ষভাবে দেশের রাষ্ট্রপতি কে হবেন উপরাষ্ট্রপতি কে হবেন ঠিক করেছে। যাদের নির্বাচিত করেছে সেই সাংসদরা ভোট দিয়েছেন। এই ৬০ লক্ষ মানুষ যদি আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন থাকে তাহলে দেশের প্রধানমন্ত্রী কেন আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন থাকবে না?" অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, "যদি দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন না থাকে তাহলে এই ৬০ লক্ষ মানুষকে তাদের ভোটাধিকার দিতে হবে, এই আমাদের দাবি।" 

ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এমন একজন, যিনি মুখ্যমন্ত্রী বা দলনেত্রী হিসেবে নয় যিনি সাধারণ একজন নাগরিক হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে মানুষের জন্য লড়াই করতে গেছেন। ভারতবর্ষে ২৮টা রাজ্য রয়েছে, ৮টা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল রয়েছে। কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে, দলনেতাকে, দলনেত্রীকে ভারতবর্ষের ১৪০ কোটি মানুষ দেশের সর্বোচ্চ আদালতে গিয়ে মানুষের পক্ষে সওয়াল করতে দেখেনি। একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করেছেন।" 

Continues below advertisement

নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission) নিশানা দেগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "অমিত শাহকে (Amit Shah) সন্তুষ্ট করতে দুর্ব্যবহার করেছিলেন জ্ঞানেশ কুমার। আমরা বলেছিলাম, আপনি আঙুল নামিয়ে কথা বলুন। তৃণমূল অন্য ধাতুর, ধমকে চমকে লাভ নেই।" তিনি বলেন, "কেউ ভাবছেন যখন ইচ্ছে মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে দেব। অপরিকল্পিতভাবে SIR এর কারণে প্রায় ১৭২ জনকে আমরা হারিয়েছি। এর মধ্যে অনেকে ভয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। একাধিক বিএলও পরিবার এর মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে হিন্দু-সহ সব ধর্মের মানুষ আছেন। সবাই এই মাটির জন্য প্রাণ দিয়েছেন। এই বলিদান, বৃথা যেতে দেব না, এটা আমাদের শপথ।"