২১ দিনে একটাই গ্যাস সিলিন্ডার, হঠাৎ ফিরল পুরনো নির্দেশিকা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে ভারতে রান্নার গ্যাসের যোগানে আশঙ্কা। ইরানের হুমকিতে হরমুজ প্রণালী আটকে অসংখ্য জাহাজ। 'ডিস্ট্রিবিউটরদের হাতে আর মাত্র ৪-৫দিনের স্টক। পরিস্থিতি সামলাতে নতুন নির্দেশিকা পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের', ২১দিনের আগে নতুন করে বুকিং নয়, দাবি ডিস্ট্রিবিউটরদের। বিকল্প রাস্তা না খুললে LPG নিয়ে আশঙ্কায় ডিস্ট্রিবিউটররা। 'বায়োমেট্রিক KYC না করালে উজ্জ্বলা প্রকল্পেও বুকিং বন্ধ', নতুন স্টক না এলে পর্যন্ত কর্মাশিয়াল গ্যাসেও সঙ্কটের আশঙ্কা। 

Continues below advertisement

রান্নার গ্যাস নিয়ে দুশ্চিন্তা চলছে। নতুন স্টক কবে আসবে জানা নেই। গতকাল পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক বলেছে ২১ দিন পর। ২১ দিনের আগে রান্নার গ্যাসে নতুন বুকিং নয়। ২১দিনে একটাই রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার। উজ্জ্বলার মধ্যে কেওয়াইসি না করালে বুকিং নয়। বায়োমেট্রিক না করলে বুকিং নয়। এই মুহূর্তে পেট্রোল-ডিজেলে সমস্যা নেই। এখনই যোগানের সমস্যা নেই, এমনটাই খবর। 

এদিকে, হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতার মধ্যেই রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে ভারতকে শর্ত বেঁধে ৩০ দিনের ছাড় দিল আমেরিকা। পশ্চিম এশিয়াজুড়ে সংঘর্ষের মধ্যেও তেল কেনা নিয়ে নয়াদিল্লির উপর ওয়াশিংটনের খবরদারির চেষ্টা অব্যাহত। রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের উপর চড়া হারে আমদানি শুল্ক চাপিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মোদি সরকারকে রাশিয়া থেকে তেলা কেনার পরিমাণ কমাতে বাধ্য করেছিল ওয়াশিংটন।

Continues below advertisement

পশ্চিম এশিয়ার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জেরে হরমুজ প্রণালী যখন কার্যত অবরুদ্ধ, তখন সেই আমেরিকার তরফেই তেলের জোগান স্বাভাবিক রাখার যুক্তি দেখিয়ে ভারতকে ৩০ দিনের জন্য রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ছাড়পত্র দেওয়া হল। সাময়িকভাবে এই ছাড়পত্র দেওয়া হলেও, ভারত যে নতুন চুক্তি অনুযায়ী আমেরিকার থেকেই বেশি তেল কিনবে, সেকথা ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছেন আমেরিকার অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট।

তিনি বলেছেন, ট্রাম্পের জ্বালানি কর্মসূচিতে তেল ও গ্যাস উৎপাদনে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে আমেরিকা। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ সচল রাখতে আমেরিকার অর্থবিভাগ ভারতকে রুশ তেল কেনার অনুমতি দিতে ৩০ দিনের একটি সাময়িক মকুব বা ওয়েভার জারি করছে। স্বল্পমেয়াদী এই পদক্ষেপ রুশ সরকারকে কোনও উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা দেবে না। কারণ এটা শুধুমাত্র সমুদ্রপথে আটকে থাকা তেলের লেনদেনের অনুমতি দিচ্ছে। আমেরিকার অর্থসচিব আরও বলেছেন, ভারত তাঁদের অপরিহার্য অংশীদার। ওয়াশিংটন আশা করে, নয়াদিল্লি তাদের থেকে তেল কেনা আরও বাড়াবে। ইরান পুরো জ্বালানি ক্ষেত্রে যেভাবে একচেটিয়া কায়েমি স্বার্থ চালু করেছিল, তা কমাতে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা কাজে আসবে বলে দাবি করেছে আমেরিকা।