কলকাতা: রাজ্যে ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর থেকেই ভাঙতে শুরু করে তৃণমূল। সেই সময় হাতে গোনা যে কয়েকজন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে যতজন ছিলেন, তাঁদের মধ্যেই বিভিন্ন জনকে নানা দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু, একে একে অনেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়েন। এই তালিকায় নবতম সংযোজন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এদিন বিকেল ৪.৩০ নাগাদ ফেসবুক লাইভে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে একাধিক অভিযোগ, বার্তা দেন।                                                 

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার যারা পেতেন, ২ কোটি ৪৬ লক্ষ প্রায়। আজকে প্রায় দেড় কোটির উপর মা-বোনেদের নাম কেটে দিয়েছে শুনেছি। তাঁরা আজ হাহাকার করছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে জানিনা। মিড ডে মিল- এ হেল্পার, যারা কাজ করতেন তাঁরাও আজ হাহাকার করছেন। কাজ দেওয়ার ক্ষমতা নেই কিল মারার গোঁসাই।'                                  

এদিকে, অন্নপূর্ণা যোজনায় এখনও পর্যন্ত আবেদনকারী ১ কোটি ৬০ লক্ষ। বাদ গিয়েছে ২৬ লক্ষ আবেদনকারীর নাম! জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেনদু অধিকারী। পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকল ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা। 

আরও পড়ুন, অর্থমন্ত্রী হিসেবে বাজেটের কিছুই জানতেন না! তৃণমূল আমলে তাহলে কে বানাতেন? বিস্ফোরক চন্দ্রিমা

তৃণমূল আমলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে সাধারণ মহিলাদের জন্য বরাদ্দ ছিল মাসে দেড় হাজার টাকা। বিজেপি আমলে এই প্রকল্পের নাম বদলে হয়েছে 'অন্নপূর্ণা যোজনা'। দ্বিগুণ হয়েছে টাকার অঙ্ক। বুধবার নেতাজি ইন্ডোরের অনুষ্ঠান থেকে দুই ২৪ পরগনর কলকতা, হাওড়া ও হুগলি-র ৫ মহিলার হাতে প্রকল্পের শংসাপত্র তুলে দেন মখ্যমন্ত্রী। ছিলেন সহ অন্যান্য মন্ত্রী ও মুখ্যসচিব।                                       

তৃণমূল জমানায় মহিলাদের জন্য় চালু হওয়া প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-এর টাকা কীভাবে পুরুষরা পেয়েছিলেন, তা এখন সামনে আসছে। সেই বিষয়টা নিয়েও বুধবার সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।