শালবনি : সোমবার  শালবনিতে জিন্দল গোষ্ঠীর তাপবিদ‍্যুৎ প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মুখ‍্যমন্ত্রী । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়োও। এদিন ৮০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট, মোট  ১৬০০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী। খরচ হবে ১৬ হাজার কোটি টাকা। শিলান্যাস অনুষ্ঠানে  মুখ্যমন্ত্রী বললেন, 'এই প্রজেক্টে ১৫ হাজার মানুষ কাজ পাবেন'। 

শালবনীতে ১৬,০০০ কোটি টাকা লগ্নি করেছে সজ্জন জিন্দলের সংস্থা । জেএসডব্লিউ এনার্জির এই প্রকল্পে বিশেষ উপকার পাবেন রাজ্যের মানুষ , জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। জানালেন, রাজ্যে ক্রমেই বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। সে-কথা মাথায় রেখেই প্রকল্প নিয়েছে রাজ্য।  এই শিলান্যাসের ৪২ মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ তৈরির প্রথম ইউনিটটি চালু হবে।  ৪৮ মাসের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটটিও চালু হয়ে যাবে। 

মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাংলার জন্য  জিন্দল গোষ্ঠীর এই প্রকল্পটি ঐতিহাসিক। আগে রাজ্যে ১ কোটি ৭ লক্ষ মানুষ বিদ্যুতের উপভোক্তা ছিলেন, এখন ২ লক্ষ ৩০ লক্ষ উপভোক্তা। রাজ্যের এই বিপুল বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে দারুণ কাজ করবে এই প্রোজেক্ট। আশা মুখ্যমন্ত্রীর। জেএসডব্লু গ্রুপের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনবে রাজ্য সরকার। তিনি জানালেন, শালবনির তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে  ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হলে, তার সুবিধা ভোগ করবে বাংলার ২৩টি জেলাই। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, এই প্রজেক্টে ১৫ হাজার মানুষ কাজ পাবেন। 

শালবনি থেকেই আরও ৫টি নতুন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার গোয়ালতোড়ে আরও একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন হবে। তাই আগামী দিনে লোডশেডিং ভুলে যাবে মানুষ। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, 'আগে লোকে বলত লোডশেডিংয়ের সরকার, আর নেই দরকার কিন্তু এখন ২৪ ঘণ্টা বিদ্য়ুৎ সরবরাহ করা হয়, এই খাতে ৭৬ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে রাজ্য'। 

মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, সাড়ে ৩ লক্ষ কিলোমিটার নতুন ইলেকট্রিকের লাইন করা হয়েছে। ৭৫০ টি সাবস্টেশন করা হয়েছে। শুধু পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ৩৭০০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। এছাড়াও আরও অনেক জায়গায় কর্মসংস্থানের কথা ঘোষণা করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দেউচা-পাচামিতে অন্যতম  কোল ব্লক প্রকল্পে ১ লক্ষ মানুষের চাকরি হবে। এছাড়াও আরও একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরি করছে জেএসডব্লু গ্রুপ। জানালেন মমতা। 'এখন শিল্পের আমাদের রাজ্যে ৯টা পার্ক হয়েছে। MSME-তে এই জেলায় ২ লক্ষ ১৫ হাজার লোক কাজ করে। বাংলা এখন দেশের সিমেন্ট হাব। ৩২টা ইউনিট এখানে কাজ শুরু করেছে। ৬টা করিডর হচ্ছে। রাজ্যকে কভার করবে। রঘুনাথপুরে ৭২ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছি। ৫টা বড় কোম্পানি আসছে। কাজ শুরু করবে। ২ হাজার একর জমিতে জঙ্গল সুন্দরী প্রকল্প করা হচ্ছে। সেল গ্যাস আসানসোল, অশোকনগরে ONGC, তাজপুরে ডিপ সি পোর্ট সব আসছে। '