কলকাতা: নিরীহ পর্যটকদের রক্তে ভিজেছিল বৈসরনের মাটি। তারপর থেকেই বদলার দাবিতে ফুঁসছিল গোটা দেশ। প্রত্যাঘাত চেয়ে পথে নেমেছিল কাশ্মীরিরাও। ১৫ দিনের মাথায় কড়ায় গন্ডায় হিসেব বুঝে নিল ভারতীয় সেনা। গোটা দেশ যখন ঘুমিয়ে ঠিক তখনই অ্যাকশনে নামে ভারতীয় সেনা। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী-সহ বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন অমিত শাহ। 'অপারেশন সিঁদুরের' পর এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছিলেন, জয় হিন্দ, জয় ভারত।
এরপর সন্ধ্যেয় সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'আজ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক করেছেন। আমরাও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করব। এই সময়ে আমাদের মধ্যে যেন কোনও বিভেদ না থাকে।সবার সঙ্গে যোগাযোগ থাকবে, প্যানিক হওয়ার কারণ নেই। কারও আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। এটা দেশকে রক্ষা করার সময়। জরুরি পরিস্থিতিতে ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পুলিশ, এসপি, ডিএম, বিডিও সকলকেই সতর্ক করা হয়েছে। মোবিলিটি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। ভিজিলেন্সও বাড়ানো হয়েছে। এখন সমস্ত ছুটি বাতিল করা হয়েছে।'
এর পাশাপাশি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে গরমের ছুটি এগিয়ে আনার কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'কোনও লিখিত বার্তা দিচ্ছি না। মৌখিক ভাবেই জানাচ্ছি। যদি ছুটি এগিয়ে আনা যায়। বাচ্চারা যত বাড়িতে থাকে ততই ভাল। বাড়িতে থেকেই পড়াশোনা করুক। বাংলা মিডিয়ামে যেমন আগেই গরমের ছুটি শুরু হয়ে গিয়েছে।'
এদিকে, পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার জবাবে পাকিস্তানে সেনা অভিযান চালিয়েছে ভারত। অপারেশন সিঁদুর এর মাধ্যমে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে জঙ্গি ঘাঁটিগুলিকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাকিস্তানের তরফে ইতিমধ্যেই পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আর সেই আবহেই সেনার ছুটি বাতিল করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সমস্ত আধা সামরিক বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের সেই মতো নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অন্যদিকে, অপারেশন সিঁদুরের পর সতর্কতা হিসাবে বড় সিদ্ধান্ত ভারতের। দেশের ৯টি এয়ারপোর্ট ১০ মে পর্যন্ত বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জম্মু, শ্রীনগর, লেহ, যোধপুর, অমৃতসর, ভুজ, জামনগর, চন্ডীগড়, রাজকোট এয়ারপোর্ট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।