কলকাতা : আর জি কর মেডিক্যালে চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের মামলায় আজ দোষী সাব্য়স্ত সঞ্জয় রায়ের সাজা ঘোষণা। নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে শিয়ালদা আদালত চত্বর। বিচারক আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে যা যা দোষপ্রমাণ হয়েছে, তাতে তার সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড, সর্বনিম্ন সাজা যাবজ্জীবন । অপেক্ষা এখন বিচারকের সিদ্ধান্তের।
আরজি করে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের পর গোড়ায় কড়া অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী। 'যথাযথ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে' বলে আশ্বাস দেন তিনি। ১২ অগাস্ট, দেহ উদ্ধারের ৩ দিন পর, ১২ অগাস্ট আর জি কর মেডিক্যালের নিহত চিকিৎসকের বাড়িতে গিয়ে তাঁর মা-বাবার সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুরু থেকেই সঞ্জয় রায়ের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে এসেছেন তিনি। সাজা ঘোষণার আগেও বললেন সেই কথা।
সোমবার আদালতের শাস্তি ঘোষণার আগে এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'ফাঁসির দাবিতে আমি নিজে মিছিল করেছিলাম। সবাই করেছে। ফাঁসির সাজা হবে কি না সেটা জজেদের উপর ডিপেন্ড করে। কীভাবে কেস সাজানো হয়েছে তার ফর ডিপেন্ড করে। আমরা তো পরপর তিনটে কেসে ফাঁসি করে দিয়েছি। আমাদের পুলিশ ৫৪ দিনের মধ্যেও করেছে। আমরা প্রত্যেকটাই ৫৩-৫৪ দিনের মধ্যেই করেছি। কিন্তু জজেরা একটু টাইম নেন। কারণ তাঁদের দেখতে হয়। আমি জুডিশিয়ারিকেও থ্যাঙ্কস জানাই। আমাদের টিম অফ ইনভেস্টিগেশনকেও থ্যাঙ্কস জানাই। '
সোমবার সকাল ১০.৪০ মিনিটে শিয়ালদা আদালতে আনা হয় সঞ্জয়কে। আদালতের সামনে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় ছিল। গার্ডরেল দিয়ে আটকে দেওয়া হয় আদালতে ঢোকার রাস্তা। নিরাপত্তা তত্ত্বাবধানে রয়েছেন ২ জন কলকাতা পুলিশের DC পদমর্যাদার অফিসার। এ ছাড়াও আছেন AC পদমর্যাদার ৫ জন অফিসার, ১৪ জন ইনস্পেক্টর। আছেন ৩১ সাব ইনস্পেক্টর, ASI ৩৯ জন এবং ২৯৯ জন কনস্টেবল। কোর্ট চত্বরে মোতায়েন থাকছেন ৮০ জন মহিলা পুলিশও । মৃত্যুদণ্ড না যাবজ্জীবন, কী সাজা হবে সঞ্জয়ের। আর জি করে চিকিৎসক ধর্ষণ-খুনের মামলায় কিছুক্ষণের মধ্যেই জানাবে শিয়ালদা কোর্ট। অপেক্ষায় গোটা দেশ। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গেই ফাঁসির সাজা চেয়েছে সিবিআই।
আরও পড়ুন :