কলকাতা : জাপানের ঐতিহ্যপূর্ণ ওকায়ামা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে 'সাম্মানিক ডি.লিট.' উপাধি পেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটি জাপানের ওকায়ামা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একত্রিত হয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। সম্মান পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেছেন, 'জাপান একটি সুন্দর দেশ। আমরা আলাদা আলাদা দেশ হতে পারি। কিন্তু আমাদের হৃদয় এক।' আগামী বছর জাপানের ওকায়ামা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন বলেও জানালেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী এদিক আরও বলেছেন যে, 'জাপান সবসময়েই মানুষদের ভালবাসে। সম্মান দেয়। ঐক্য, একতা নিয়ে কাজ করে। শিক্ষা এবং সংস্কৃতির প্রতি নজর দেয়। ভারতে আসার জন্য এবং এই সম্মান প্রদান করার জন্য ধন্যবাদ।'    

Continues below advertisement

১৮৭০ সালে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল জাপানের ওকায়ামা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্বের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে এটি একটি এবং জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে তো এটি অন্যতম সেরা বটেই। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলার দুই বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাপানের এই বিশ্ববিদ্যালয় একত্রিত হয়ে কাজ করছে। এই ব্যাপারে যে তিনি অত্যন্ত খুশি হয়েছেন, তাও প্রকাশ করেছেন। এই একত্রিত হয়ে কাজ করার ফলে দু'দেশের ছাত্রছাত্রীদের উন্নতি হবে বলে আশাবাদী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানেই শেষ নয়। জাপানের ভূয়সী প্রশংসা এদিন বারংবার শোনা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর মুখে। 

 

Continues below advertisement

 

 

 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'জাপান খুব সুন্দর একটা দেশ। সুন্দর পাহাড় আছে। সুন্দর নদী আছে। সুন্দর জঙ্গল আছে। কী নেই ওখানে। আর আপনাদের স্বাস্থ্যও সবসময় খুব ভাল থাকে। কীভাবে আপনারা ধরে রাখেন এটা একটা শিক্ষণীয় বিষয়। তবে দুঃখের গল্পও আছে জাপানে, তার কারণ বিশ্বযুদ্ধ। তবে আপনারা জাপানকে যেভাবে গড়ে তুলেছেন পরবর্তীতে, তা প্রশংসনীয়। আমাদের ছাত্রছাত্রীরাও জাপানে গিয়ে পড়াশোনা করতে ভালবাসে। গবেষণার জন্য সেখানে যায়।' মুখ্যমন্ত্রীর কথায় এদিন বারবার উঠে এসেছে জাপান এবং ভারতের মধ্যে গড়ে ওঠা সুস্পর্কের কথা। 

 

 

জাপানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বোঝাতে গিয়ে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমরা আলাদা দেশ হতে পারি, কিন্তু আমাদের হৃদয় এক, রক্ত এক। আমরা একে অন্যকে ভালবাসি। এটাই মানবতা। এটাই ভারত এবং বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য।' পরিশেষে জাপানি ভাষায় ধন্যবাদ জানান তিনি। ওকায়ামা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে আসা আধিকারিকদের বাংলায় এসে তাঁকে সম্মান প্রদানের জন্য বারংবার ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।