রুমা পাল, গৌতম মণ্ডল, সুজিত মণ্ডল, ঐশী মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : বিহারের পর পশ্চিমবঙ্গেও ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন হবে। আর এই সংশোধনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবেন BLO বা বুথ লেভেল অফিসাররা। ইতিমধ্যেই BLO-দের নিয়ে শুরু হয়ে গেছে টানাটানি। 'পরিষ্কার বলি, ভোটার তালিকার কাজটা ভাল করে করবেন' কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যই এখন দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে BLO-দের। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে হুঁশিয়ারি হিসাবেই দেখছেন তাঁদের অনেকে। সাঁড়াশি চাপে কার্যত দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া এই রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা পাল্টা হুঙ্কার দিয়ে বলছেন, শিরদাঁড়া বিক্রি নেই।
বুথ লেভেল অফিসার কারা ?
BLO। অর্থাৎ বুথ লেভেল অফিসার। ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন শুরু হওয়ার পর, কার নাম ভোটার তালিকায় থাকবে, কার নাম বাদ যাবে - তা নির্ধারণে অত্য়ন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে এই BLO-দের। যাবতীয় নথি খতিয়ে দেখবেন তাঁরা। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেক বুথ পিছু একজন করে BLO থাকবেন। তাঁদের কাজ হল বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা মিলিয়ে দেখা। ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা সংশোধন হয় তাঁদের হাত দিয়েই। শাসক, বিরোধী আর নির্বাচন কমিশন। এই তিনের চাপে পড়ে এখন হাঁসফাঁস অবস্থা BLO-দের। মুখ্যমন্ত্রী কী বলেছেন?
ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন শুরু না হলেও, ইতিমধ্য়েই BLO-দের কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। BLO দের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, 'আপনারা BLO যেসব লিস্ট করেছেন, BLO-দের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে ভোটার লিস্ট থেকে কারও নাম যেন বাদ না যায় সেটা দেখার।...এটা মনে রাখবেন আপনারা চাকরি করেন রাজ্য সরকারের।' মুখ্যমন্ত্রীর এই 'অনুরোধকে' কার্যত হুঁশিয়ারি হিসেবেই দেখছেন বিএলও-রা।
BLO দের প্রতিক্রিয়া
এই পরিস্থিতিতে পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেননি বুথ লেভেল অফিসাররা। BLO-র দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষিকা অনিতা সরকার বলছেন, 'মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে বললেন এটা তো কোল্ড থ্রেট। ওনার নৈতিক অধিকার আছে? কমিশনকে সুরক্ষা দিতে হবে। আমি যদি দেখি কেউ ওই ঠিকানায় থাকে না, অন্য দেশের নাগরিক তাহলে তো আমায় বাদ দিতে হবে।'
BLO-র দায়িত্বপ্রাপ্ত আরেক শিক্ষক চিরঞ্জিত ধীবর বলেছেন, 'মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে আমাদেরকে অনুরোধের সুরে হুমকি দিয়েছেন, যে আমরা যেন ভোটার তালিকার কোনও নাম না বাদ দিই। এটা তো অস্বাভাবিক। আমরা তো বিভিন্ন জায়গায় জানি যে মৃত ভোটার থাকতে পারে, ভুয়ো ভোটার থাকতে পারে...আমরা শিরদাঁড়া বিক্রি করব না।'
আবার শিক্ষক শিক্ষাকর্মী BLO ডিউটি প্রতিরোধ মঞ্চের আহ্বায়ক অনিমেষ হালদার বলছেন, 'এই পরিস্থিতিতে সিকিওরিটির ব্যাপারটা না কনফার্ম হলে, আমরা কিন্তু এই দায়িত্ব পালন করব না।'
BLO-র দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, 'নির্বাচন কমিশনের যা গাইডলাইন থাকবে সেই নিয়ম মেনেই কাজ করব...আমার মনে হয় এটা উস্কানিমূলক মন্তব্য ছাড়া আর কিছুই নয়।'
সব মিলিয়ে, গুরুদায়িত্ব পালন করার আগেই রাজনীতির চাপে হাঁসফাস অবস্থা বিএলওদের।