আশাবুল হোসেন, কলকাতা: প্রধানমন্ত্রীর পরে এবার এ মাসেই সিঙ্গুরে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। ভোটের আগে ফের নজরে সিঙ্গুর, মোদির পর এবার যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, ২৮ জানুয়ারি, সিঙ্গুরে জনসভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই দিন ওই মঞ্চে উপস্থিত থাকতে পারেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনটাই সূত্রের খবর। রাজনৈতিক সভার পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের ঘোষণার সম্ভাবনা আছে, এমনটাই জানা যাচ্ছে। 

এদিকে সিঙ্গুরে মমতার সভার বিষয় নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'টাটাদের তাড়ানোর পর উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) ওখানে সর্ষে ছড়িয়েছিলেন, মাছ চাষের চেষ্টা করেন কিছুই হয়নি। টাটাকে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব বিজেপির। আমাদের কমিটমেন্ট এটা। সিঙ্গুর নিয়ে যা বলার মোদি এক লাইনেই বলে দিয়েছেন। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ঠিক না হলে বিনিয়োগ আসবে না। এই রাজ্য থেকে আগে জামাতি হটাতে হবে। তা না হলে কিছুই হবে না।' 

এ প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, 'সারা দেশেই তো বিজেপি ক্ষমতায় যা চাকরি দেবে বলেছিল, তার চেয়ে বেশি চাকরি হারিয়েছে। এটা মনে রাখতে হবে গুজরাতে ন্যানো কারখানা কিন্তু বন্ধ হয়ে গিয়েছে। টাটা মোটরসের এমডি এম চন্দ্রা নবান্নে এসে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে বলে গিয়েছিলেন বিনিয়োগের কথা।'                                             

মমতা সিঙ্গুরের সভা নিয়ে বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, 'এর আগে প্রধানমন্ত্রী গেছে তাই পাল্টা সভা করতেই হবে। সিঙ্গুরে শিল্প ধ্বংসের মূল নেত্রী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর প্রধানমন্ত্রী এসে সিঙ্গুরের শিল্প নিয়ে একটা কথা বলার সাহস পেলেন না'।  

এদিকে, গত রবিবার সিঙ্গুরে এসে একাধিক সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস করলেও সিঙ্গুরে শিল্প নিয়ে একটি শব্দও বললেন না প্রধানমন্ত্রী। আর এতেই ক্ষোভে ফুঁসছেন সিঙ্গুরের কৃষকদের একাংশ। এরই মধ্যে আবার সিঙ্গুরের  কৃষিজমিতে নতুন করে হয়েছিল কংক্রিট। এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে আসার জন্য কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমন্ত্রণপত্র বিলি করে এসেছিলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। তাতে আশার আলো দেখেছিলেন কৃষকরা। কিন্তু রবিবার সূর্যাস্তের পর সিঙ্গুর আবার তলিয়ে গেল সেই অন্ধকারেই। 

তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা নিয়ে কিছুটা আশায় রয়েছে সিঙ্গুর। যদি কিছু ঘোষণা হয়।