সিঙ্গুর : 'একবার ১০ হাজার, ইলেকশনের পর বুলডোজার।' নাম না করে বিজেপিকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীর সভার ১০ দিন পর আজ সিঙ্গুরে সভা করেন তিনি। সভার আগাগোড়া বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন। উঠে আসে সিঙ্গুরে শিল্পায়ন ও কর্মস্থানের প্রসঙ্গ। সুর চড়ান SIR ইস্যুতেও। মমতা বলেন, "একটা সাবধান করে দিয়ে যাই। আপনাদের কাজে লাগবে। এখানে কোনও একজন লোক বসে আছে। কোথায় আছে আমি জানি। অনেক প্রাইভেট কোম্পানির নাম করে মিথ্যা টাকা আপনাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠাতে পারে। সরকারি প্রকল্পের টাকা তো আপনার জানেন, যা পান। সেই টাকা পেলে ওই টাকাটায় হাত দেবেন না। পরে কিন্তু ফাঁসিয়ে দেবে। বিহারের মতো অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা চলে যাবে। একবার ১০ হাজার, ইলেকশনের পরই বুলডোজার। আমরা এটা করি না।"

Continues below advertisement

২০১১-র বিধানসভা ভোটে, রাজ্য় রাজনীতির পট পরিবর্তনে বড় ভূমিকা নিয়েছিল যে সিঙ্গুর, দিনকয়েক আগে সেখানে দাঁড়িয়েই, আরেক বিধানসভার মুখে, আসল পরিবর্তনের ডাক দিয়ে যায়ন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, "সবাই একই ভাবনা, একই আশা নিয়ে এসেছেন, যে, আমাদের আসল পরিবর্তন চাই। প্রত্যেকে ১৫ বছরের মহা জঙ্গলরাজকে বদলাতে চাইছে।" 

বিহারে NDA-র জয়ের পর, পশ্চিমবঙ্গ থেকে জঙ্গলরাজ উপড়ে ফেলার কথা বলেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। সিঙ্গুরের সভা থেকে ফের একবার সেই ইস্য়ুতে হুঙ্কার শোনা যায় তাঁর গলায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, "এখন তো বিজেপি-NDA বিহারের জঙ্গলরাজকে আটকেছে। এবার পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের মহাজঙ্গলরাজকে বিদায়ের জন্য তৈরি রয়েছে। আমার সঙ্গে একটা সংকল্প নেবেন তো? পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার। পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৃণমূলের মহাজঙ্গলরাজকে বিদায় দিয়ে বিজেপির সুশাসন আনা খুব জরুরি।"

Continues below advertisement

মোদির সভার ১০ দিন পর সেই সিঙ্গুরেই সভা করে বিজেপির বিরুদ্ধে সুর সপ্তমে চড়ালেন তৃণমূলনেত্রী। কেন্দ্রীয় বাজেটের প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রকে নিশানা করেন মমতা। তিনি বলেন, "এবারেও দেখবেন কেন্দ্রীয় সরকার বাজেটে বড় বড় কথা বলবে। কাজের কাজ কিছু নেই। ওষুধের দাম আকাশছোঁয়া। ট্রেনের ভাড়া আগে কী ছিল ? আর আজ কী হয়েছে ? একদিকে নোটবন্দি করেছ, আর এখন করছে ভোটবন্দি। যেন রেখে দাও, জনগণ একদিন তোমাদের জনগণের আদালতে বন্দি করবে। সেই দিন তুমি পিঠে পোস্টার লাগিয়ে বলবে, আমি বিজেপি করি না। সেই দিন আসছে।"