ঝিলম করঞ্জাই ও শুভেন্দু ভট্টাচার্য, কলকাতা : তৃণমূলের হাতছাড়া হওয়ার পথে মেখলিগঞ্জ পুরসভা। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির হাত ধরে কংগ্রেসে যোগ দিলেন মেখলিগঞ্জের তৃণমূল পুরপ্রধান। আরও ৫ তৃণমূল কাউন্সিলরও হাঁটতে চলেছেন তাঁর দেখানো পথে, এমনটাই দাবি করেছেন তৃণমূলত্যাগী পুরপ্রধান। তবে কি তৃণমূলের ঝালদা ও সাগরদিঘি মডেলের মধুর প্রতিশোধ নিতে চলেছে কংগ্রেস?                           

Continues below advertisement

এ যেন ঝালদা পুরসভা ও সাগরদিঘি বিধানসভার মধুর প্রতিশোধ! রাজ্যে পালাবদলের একমাসের মধ্যেই, তৃণমূলের হাতছাড়া হচ্ছে কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ পুরসভা। প্রকৃত অর্থেই যে তৃণমূলের দুর্দিন শুরু হয়ে গেছে, মিলল আরও একটা হাতে গরম প্রমাণ। শুক্রবার, তৃণমূল পরিচালিত মেখলিগঞ্জ পুরসভার পুরপ্রধান যোগ দিলেন কংগ্রেসে। তৃণমূলত্যাগী নেতার হাতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের পতাকা তুলে দিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।  তৃণমূলত্যাগী পুরপ্রধান প্রভাত পাটনি এদিন বলেন, ' কংগ্রেস জাতীয় দল। আর তৃণমূল এখন আঞ্চলিক দলে পরিণত হয়েছে।' 

তৃণমূলত্যাগী নেতার হাতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের পতাকা তুলে দিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, মেখলিগঞ্জ পুরসভা উত্তরবঙ্গের ৯টি আসন নিয়ে এই পুরসভা। ৬ জন যাঁরা এই বোর্ডের ভিতরে আছেন, তাঁরা সবাই আজকে কংগ্রেসের আদর্শ-নীতি, রাহুল গান্ধীর যে লাগাতার লড়াই তাঁর সাথী হওয়ার জন্য  তাঁরা কংগ্রেসের পতাকার নীচে এসে কাজ করতে চান, লড়াই করতে চান। প্রভাত পাটনির দাবি,  আমরা কংগ্রেসেই থাকছি। এই জয়েনিংয়ের আগে আমি আমার কাউন্সিলরদের সবার সঙ্গে কথা বলেছি। এখান থেকে যাওয়ার পরে তাঁদের সাথে আবার বসব, আমাদের মেখলিগঞ্জ পুরবোর্ডকে কংগ্রেসের পুরবোর্ড হিসাবে পরিণত করব।

Continues below advertisement

উত্তরবঙ্গের আরেক জেলা জলপাইগুড়িতেও তৃণমূলে ভাঙন ধরেছে। কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মলয় রায়। যিনি বর্ষীয়াণ কংগ্রেস নেতা দেবপ্রসাদ রায়ের ভাইপো। সিপিএমের সঙ্গে জোট বেধে মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিল কংগ্রেস। কিন্তু সেই একমাত্র বিধায়ককেও ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল! একইভাবে দলবদলের রাজনীতির খেলায় কংগ্রেস পরিচালিত ঝালদা পুরসভাও দখল করেছিল তারা। এবার তৃণমূলের রাজপাট খতম হওয়ার পর, মেখলিগঞ্জে তারই যেন মধুর প্রতিশোধ নিল কংগ্রেস।

বিজ্ঞান বলে প্রত্য়েক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। এখন তৃণমূলও তা টের পাচ্ছে!