কলকাতা : ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলের ১৫ বছরের রাজত্ব তাসের দেশের মত এক লহমায় ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে। বঙ্গে এখন বিজেপি সরকার। আর নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর তৃণমূল জমানায় ঘটে যাওয়া একের পর এক অপরাদের ফাইল খুলছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রতিশ্রুতি মতো শপথ নেওয়ার পরই ২০২৪-এ ঘটে যাওয়া আর জি করের সেই হাড়হিম করা ঘটনার তদন্ত পুনরায় শুরু করলেন তিনি।
আর জি করের ফাইল খুলতেই প্রথমে ৩ পুলিশ কর্তাকে সাসপেন্ড করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু তিন জন পুলিশ কর্তাকে সাসপেন্ড করা নয়, কোন কোন বিষয়গুলো নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত করা হবে সেই বিষয়গুলোও স্পষ্ট করে জানান তিনি। তারপর স্ক্যানারে আসেন চিকিৎসক অভীক দে। অভীক দে'র বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়। থ্রেট কালচার-সহ একাধিক অভিযোগে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ। এবার এই ঘটনা নিয়ে শিয়ালদা কোর্টে স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিল CBI । কিন্তু কোর্ট চত্বরে নিজের মেয়ের সুবিচারের আসায় ফের ৩ জনের নাম প্রকাশ্যে আনেন অভয়ার মা। আর তারপর শোরগোল পড়ে রাজ্য রাজনীতিতে।
আরও পড়ুন - সেমিনার রুমে কারা ছিলেন ? টাকা দিচ্ছিলেন কে ? কী জানালেন অভয়ার মা ?
৩ রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত চায় অভয়ার পরিবার। নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় ও সোমনাথ দে-র বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনেন। এই ৩ নেতাকে তদন্তের আওতায় আনার দাবিতে কোর্টে অভয়ার পরিবার। 'কেন অভয়ার সৎকারে এত তাড়াহুড়ো করা হয়েছিল?' নেপথ্যে কী কারণ ছিল? প্রশ্ন তুলে শিয়ালদা কোর্টে আবেদন করেন, পাশাপাশি এজলাসেই CBI-এর ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভে ফেটে পড়লেন অভয়ার পরিবার।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভয়ার মা জানান, ''সুমিত রায় তপাদার, উনি জানেন না...ডেড বডি দেখে গায়ে একটা কম্বল চাপা দিয়েদেন। যখন দেখছেন তার গায়ে একটা বস্ত্র নেই। এটা ডাক্তার হয়ে ঠিক করলেন কী? কেন তদন্তের আওতায় আনা হবে না? অন্যদিকে যখন সুমিত রায় সন্দীপ ঘোষকে ফোন করেন। যখন বলেন, এখানে ইমার্জেন্সিতে পি জিটির একটি মেয়ে আত্মহত্মা করেছে, আর তখন তিনি বলেন মর্গে পাঠিয়ে দাও।'' আরও পড়ুন - আর জি কর কাণ্ডে স্ক্যানারে অভীক দে, তদন্তের নির্দেশ রাজ্যপালের, ঠিক কী অভিযোগ ?
