অমিত জানা, বেলদা: নভেম্বর মাস। বাতাসে শীতের আমেজ। বছরের শেষ পর্বের স্বাদ উপভোগ করতে তৈরি আট থেকে আশি। শীত শুরু হতেই পরিযায়ী পাখির আনাগোনা শুরু হয় পশ্চিমবঙ্গে। পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদায় ফি বছর দেখা মেলে প্রচুর পরিযায়ী পাখির। ভিনদেশি পাখিদের কলতানে মুখরিত হয় গোটা এলাকা।
তবে আচমকাই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে একের পর এক পরিযায়ী পাখি! পরিযায়ী পাখিদের মৃত্যু ঘিরে রহস্য বেলদায়। পরিযায়ী পাখির মৃত্যু রুখতে তৎপরতাও দেখা গেল। বেলদার আম্বিডাঙ্গরে এল দমকল। পাশাপাশি পরিবেশ সচেতনতামূলক প্রচারে নামল বন দফতর।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বেলদা থানার অন্তর্গত হেমচন্দ্র গ্রাম পঞ্চায়েতের আম্বিডাঙ্গর গ্রামে প্রত্যেক বছরই শীতে ভিড় করে পরিযায়ী পাখির দল। তবে আচমকাই পরিযায়ী পাখিদের মৃতদেহ দেখা যাচ্ছে যত্রতত্র। পরিযায়ী পাখির মৃত্যু ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা দেখা গেল সোমবার দুপুরে। যেখানে বেশ কিছু পরিযায়ী পাখির নিঃসার দেহ পাওয়া গিয়েছে, সোমবার সেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় খড়্গপুর দমকল বিভাগের একটি ইঞ্জিন। মৃত পাখি পাওয়া গাছ ও সংলগ্ন জঙ্গল এলাকাগুলোতে জল দিয়ে পুরো অঞ্চল ধুয়ে পরিষ্কার করা হয়। সঙ্গে ছিল খড়্গপুর বনবিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মঞ্চের বেলদা ও খাকুড়দা শাখা। তাঁদের উদ্যোগে এলাকায় মাইকিং করে পরিবেশ সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়। এদিন গাছগুলি পরিষ্কার করার সময় আরও বেশ কিছু সংখ্যক মৃত পাখি উদ্ধার হয়।
দমকল কর্মী তীর্থঙ্কর ভূঁইয়া বলেন, 'বন দফতরের তরফ থেকে আমাদের ফোন করা হয়েছিল। গাছে কেউ বা কারা বিষ প্রয়োগ করেছে। আমরা ওই গাছে বিষ আছে কি না বলতে পারছি না কিন্তু আমরা জল দিয়ে স্প্রে করেছি এবং গাছে বেশ কয়েকটি পাখিও মৃত দেখতে পাওয়া গেছে। যে গাছটিতে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল বলে দাবি, সেই গাছটি সহ পাশাপাশি এলাকাতেও জল স্প্রে করা হয়েছে।'
বেলদা বন বিভাগের রেঞ্জার তৌহিদ আনসারি বলেন, 'একটি গাছে কেউ বা কারা বিষ প্রয়োগ করেছে। বেশ কিছু পাখি মারা গিয়েছে। আমরা এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচার করেছি। গাছে জল স্প্রে করা হয়েছে। কে বা কারা গাছে বিষ প্রয়োগ করল তার তদন্ত চালানো হচ্ছে।'
যদিও এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি বলে জানা গিয়েছে। বিলুপ্ত পরিযায়ী পাখি নিধন রুখতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে, জানিয়েছেন বন দফতরের আধিকারিক।