কলকাতা : SIR-বিরোধিতায় তৃণমূলের ধর্না মঞ্চে উপস্থিত গেরুয়া বসন পরিহিত, 'সন্ন্যাসী' দাবি করা ব্যক্তির পরিচয় ঘিরে তৈরি হল বিতর্ক। গত ৬ মার্চ, SIR-এর বিরোধিতায় তৃণমূলের ধর্নামঞ্চে এসেছিলেন এই সন্ন্যাসী। দাবি করেছিলেন যে, তিনি চোদ্দো বছর ধরে মিনাখাঁ রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের প্রেসিডেন্ট। তাঁর নামও SIR-এ বাতিল করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এর পাশাপাশি তিনি দাবি করেছিলেন, তিনি বেলুড় মঠের দশম প্রেসিডেন্ট স্বামী বীরেশ্বরানন্দের মন্ত্রশিষ্য। শুধু তাই নয়, তিনি কার্যত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন ও এসআইআর প্রক্রিয়ার তীব্র নিন্দা করেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় ওই ব্যক্তি নিজেকে মিনাখাঁ রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের প্রেসিডেন্ট বলে দাবি করলেও, রামকৃষ্ণ সারদা মিশন বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দিল, রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের মিনাখায় কোনও শাখা নেই !
সেদিন কী বলেছিলেন ওই ব্যক্তি?
নিজেকে মিনাখাঁয় রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের প্রেসিডেন্ট বলে দাবি করা ব্যক্তি বলেন, 'আমি বেলুড় মঠের দশম প্রেসিডেন্ট স্বামী বীরেশ্বরানন্দের মন্ত্রশিষ্য। আমি আজ দিদির কাছে এলাম। বললাম, এরকম যদি হতে থাকে... সত্যের জয় হোক। এসআইআর যাতে উঠে যায়, তার জন্য ঠাকুর-মা-স্বামীজির কাছে প্রার্থনা জানাচ্ছি।'
কী বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ?
এই এই ব্যক্তির দাবি শুনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মিনাখাঁ রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের প্রেসিডেন্টের ক্ষোভের কথা শুনেই পাশ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'কাগজগুলো দেখিয়ে দিন। ২০০২ সালেও ভোটার তালিকায় নাম ছিল বলছেন।' সেদিন মঞ্চ থেকে কমিশনকে নিশানা করে সন্ন্যাসী বলেন, 'আমি ইঞ্চিতে-ইঞ্চিতে খোঁজ রাখি। এখানে এমন সাত জনকে হাজির করব, যাঁদের ফাইনাল ভোটার লিস্টে মৃত বলা হয়েছে।'
কী জানাল মিশন ?
ধর্নামঞ্চে হাজির ওই সন্ন্যাসীর ভিডিও, বক্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আলোচনাও হয় বিস্তর। সেই ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় পোস্টও করে তৃণমূল। তারপর বিজ্ঞপ্তি দিয়ে রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের পক্ষ থেকে বলা হল, ' রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের মিনাখায় কোনও শাখা নেই এবং কোনও সন্ন্যাসী যদি এমন কোনও প্রতিষ্ঠানের সভাপতি বলে নিজেকে দাবি করেন তাহলে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। যথাযথ অনুমতি ছাড়া কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের নাম, প্রতীক বা চিহ্ন ব্যবহার করে, তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। '
