বহরমপুর: গতকাল থেকে বেলাগাম তাণ্ডবের পর অবশেষে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে। তবে বেলডাঙার পরিস্থিতি এখনও থমথমে। সেই আবহেই শান্তি, শৃঙ্খলা ফেরানোর আর্জি জানালেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কারও উস্কানিতে পা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বললেন সকলকে। শুধু তাই নয়, গোটা পরিস্থিতির জন্য বিজেপি-কে তীব্র আক্রমণও করলেন অভিষেক। বেলডাঙার অশান্তিতে হুমায়ুন কবীরেরও ইন্ধন রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিলেন অভিষেক। (Abhishek Banerjee)

Continues below advertisement

বেলডাঙায় অশান্তির পরিবেশ থাকাকালীনই শনিবার বহরমপুরে রোড শো করেন অভিষেক। এর পর জনগণের উদ্দেশে বক্তৃতা করতে গিয়ে আক্রমণ শানান তিনি। বলেন, "আপনাদের কাছে আমার আবেদন, করজোড়ে অনুরোধ করছি, গতকাল বেলডাঙায় যা হয়েছে...কারও কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না। গতকাল সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিনিধির উপর আক্রমণ হয়েছে, আজও হয়েছে। আমি দলীয় ভাবে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করব, এঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। তৃণমূলের কেউ এটাকে সমর্থন করে না। কিন্তু আমাদের সংযত থাকতে হবে। কেউ উস্কে দিল, আর তার কথা শুনে যদি আইন নিজের হাতে তুলে নিই, তাতে আখেরে লাভ কিন্তু বিজেপি-র।" (Beldanga Protests)

বেলডাঙার অশান্তি নিয়ে নাম না করে তৃণমূল ত্যাগী হুমায়ুন কবীরকেও নিশানা করেন অভিষেক। তিনি বলেন, "আজ আমার সভায় আসার আগে বেলডাঙায় অশান্তির খবর পাই। গতকালও হয়েছে। দলের তরফে ফোন করে সভা করার দরকার নেই বলেছিলেন অনেকে। সকাল ১১টা থেকে কথা বলছি অনেকের সঙ্গে। খোঁজ নিয়ে দেখলাম, এই যে ঘটনাটি ঘটছে, তাতে ইন্ধন দিচ্ছে বিজেপি-র বাবুরা, আর একটা নতুন গদ্দার তৈরি হয়েছে এই মাটিতে, সে। আমি যদি আজ এখানে না আসতাম, তাহলে সেই গদ্দারদের অক্সিজেন দেওয়া হতো। আমি যখন দেখলাম এই ঘটনার পিছনে প্রত্যক্ষ ভাবে তাদের মদত ও ইন্ধন রয়েছে, যারা কোনও দিন মানুষের পাশে থাকেনি। একটা গদ্দার, একটা মিকজাফর, একটা বিজেপির ডামি প্রার্থীকে বিদায় দিয়েছেন আপনারা। আর একটা নতুন গজিয়েছে। সেটাকে গণতান্ত্রিক ভাবে ব্যবস্থা করতে হবে। ধর্মে ধর্মে বিভাজন ঘটিয়ে মানুষকে মানুষের বিরুদ্ধে যারা লড়িয়ে দেয়, তাদের বিরুদ্ধে এক হতে হবে সকলকে। মুর্শিদাবাদে কোনও রকম ভাবে, কোনও বুথে যদি কেউ বিজেপি-র বিভাজনের রাজনীতির বীজ বপন করে বিভাজন তৈরি করে, তাহলে মুর্শিদাবাদ দুর্বল হবে, আর বিজেপি শক্তিশালী হবে।" অভিষেক আরও বলেন, "আজ যারা বাবরি মসজিদ নিয়ে রাজনীতি করছে, ২০১৯ সালে বিজেপি-র প্রার্থী ছিল। বিজেপি-র সঙ্গে কার যোগাযোগ? তার প্রকৃত স্বরূপ শীঘ্রই জনসমক্ষে আসবে। অপেক্ষা করুন, আসল চেহারা খুব তাড়াতাড়ি জনগণের সামনে আসবে।"

Continues below advertisement

এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা নিয়ে অভিষেক বলেন, "মুর্শিদাবাদের ভাইয়েদের বলব, সমবয়সি, অগ্রজ, অনুজ সকলকে অনুরোধ করব, এলাকার শান্তি, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখুন। বিজেপি-কে কোনও ভাবে অক্সিজেন দেওয়া যাবে না। যে বুথে বিজেপি-র নেতা-কর্মীরা রয়েছেন, যাঁরা পাঁচ বছর ধরে আমাদের বঞ্চিত, নিপীড়িত, শোষিত, অত্যাচারিত করে রেখেছে, ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা, পাড়ার রাস্তা, কলের জল বন্ধ রেখেও যারা থামেনি...পরবর্তীতে SIR করে ধারাবাহিক ভাবে নির্যাতন চালানো হচ্ছে মানুষের উপর। এটা নির্বাচন কমিশন নয়, নির্যাতন কমিশন। কথায় কথায় লাইনে দাঁড় করায়। ১০ বছর আগে নোটবন্দির নামে লাইনে দাঁড় করিয়েছিল। মুর্শিদাবাদে ২০০-৩০০ বছর ধরে বাস অনেক পরিবারের। ১০০-১৫০ বছর আগের সম্পত্তির কাগজ রয়েছে। আজ আমাদের লাইনে দাঁড়িয়ে নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহকে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে! ১১৬ জন আত্মঘাতী হতে যান, যার মধ্যে ৮৪ জন মারা গিয়ছে। ওদের ইচ্ছে হলেই লাইনে দাঁড়িয়ে প্রমাণ দিতে হবে। কে হে তুমি? আমি কী খাব, কী পরব, কোথায় হাঁটব, কী রংয়ের জামা পরব, কার সঙ্গে কথা বলব, তা বিজেপি নেতারা ঠিক করে দেবেন?"

ভিন্ রাজ্যে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য এদিন হেল্পলাইন নম্বরও প্রকাশ করেন অভিষেক। ৭৪৩০০০০০৩০, ৯১৪৭৮৮৮৩৮৮-এই দু'টি নম্বর প্রকাশ করে জানান, যে কোনও সমস্যায় পড়লে সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে। রাজ্যের সরকার তাঁদের আইনি সহযোগিতা জুগিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করবে। আলাউদ্দিন শেখকে নিয়ে ঝাড়খণ্ড সরকারের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে, তিনি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে আর্জি জানিয়েছেন এবং ঝাড়খণ্ড সরকার সেই মতো আশ্বাস দিয়েছে বলেও এদিন জানান অভিষেক।

অভিষেক জানিয়েছেন, বহরমপুরের তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠান বেলডাঙা যেতে চেয়েছেন। কিন্তু দলীয় নেতৃত্বই তাঁকে বারণ করেছেন, দু'একদিন অপেক্ষা করতে বলা হয়। এর পরও সকলকে সতর্ক করে অভিষেক বলেন, "প্রশাসন কাজ করছে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। আইন হাতে তুলে নিলে লাভ বিজেপি-র, লাভ গদ্দারদের। কারও উস্কানিতে পা দেবেন না।"