কলকাতা: মুর্শিদাবাদের অশান্ত পরিস্থিতি (Murshidabad Chaos) নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) নিশানা করে আক্রমণ করেছিলেন যোগী আদিত্য়নাথ। মহাকুম্ভে মৃত্যুর ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে একদিনের মধ্যেই উত্তরপ্রদেশ মুখ্যমন্ত্রীকে তার জবাব দিলেন বাংলার মুখ্য়মন্ত্রী। পাল্টা পাগলের প্রলাপ বলে মমতাকে কটাক্ষ করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।

কী বলেছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী? 

মুর্শিদাবাদের হিংসা নিয়ে তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্য়মন্ত্রী যোগী আদিত্য়নাথ। ২৪ ঘণ্টার মধ্য়ে তার পাল্টা জবাব দিলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। ওয়াকফ-বিক্ষোভের নামে হিংসায় মুর্শিদাবাদের কারও ঘর পুড়েছে। কারও রুজিরুটির সম্বল দোকানটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। কেউ নিজে বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় শিবিরে যেতে বাধ্য় হয়েছেন। সাধারণ মানুষগুলোর এই দুর্দশার জন্য দায়ী কে? তা নিয়ে মঙ্গলবার তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেছিলেন বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশের মুখ্য়মন্ত্রী যোগী আদিত্য়নাথ। তিনি বলেন, "বাঙালিকে 'শান্তির দূত' বলা হত। আরে লাথো কে ভূত, বাতো সে কাহা মাননেওয়ালে হে। কিন্তুধর্মনিরপেক্ষতার নামে এরা দাঙ্গাবাজদের দাঙ্গা করার জন্য পুরো ছাড় দিয়ে রেখেছে। পুরো মুর্শিদাবাদ গত এক সপ্তাহ ধরে জ্বলছে। সরকার চুপ আছে। ভাই-বোনেরা, এই ধরনের অরাজকতায় লাগাম টানা উচিত।''যোগীকে জবাব মমতার: মৌনি অমাবস্যায় মহাকুম্ভে পদপিষ্ট হয়ে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একের পর এক অগ্নিকাণ্ড। নয়াদিল্লি স্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে ১৮ জনের মৃত্যুর পর যোগী প্রশাসনের ব্য়বস্থাপনা নিয়ে বারবারই সরব হয়েছে তৃণমূল। এবার মুর্শিদাবাদের হিংসার প্রেক্ষিতে, যোগী আদিত্য়নাথের আক্রমণের জবাবে ফের সেই প্রসঙ্গ টেনে আনলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। বুধবারই, মহাকুম্ভের প্রসঙ্গ টেনে যোগী আদিত্যনাথের আক্রমণের জবাব দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "যোগী বড় বড় কথা বলছে। সব থেকে বড় ভোগী। মহাকুম্ভে কতজনের মৃত্যু হয়েছে? কতজন আহত হয়েছে?''

এদিকে মুর্শিদাবাদে আসছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও। পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে ডিজি (তদন্ত বিভাগ)-কে একটি বিশেষ টিম গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৩ সপ্তাহের মধ্য়ে তদন্ত রিপোর্ট কমিশনে জমা দিতে বলা হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পাশাপাশি রাজ্যে আসার কথা জানাল জাতীয় মহিলা কমিশনও। ১৮ তারিখ মালদা ও ১৯ তারিখ মুর্শিদাবাদ যাবেন জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিরা। বুধবার প্রেস বিবৃতি জারি করে চার সদস্যের দল গঠনের কথা জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহতকর।