মুর্শিদাবাদ: অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার নিয়ে বৈঠকে তৃণমূল নেতা ও সহকর্মীদের মারধর।  পা ভাঙল প্রধান শিক্ষকের, অভিযোগ উঠল মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা হাইস্কুলে। এই ঘটনায় ১ জন শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে ফরাক্কা থানার পুলিশ।

FIR-এ নাম রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির রাজ্য কমিটির সদস্য তারিফ হোসেনের। আহত প্রধান শিক্ষক মালদা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি রয়েছেন। ফরাক্কা থানায় তৃণমূল নেতা ও স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি-সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের। গত বছরের শুরুতে নরেন্দ্রপুরে (Narendrapur) স্কুলে ঢুকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেধড়ক মার, তাণ্ডব-ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছিল। প্রধান শিক্ষকের মদতেই বহিরাগতদের হামলার অভিযোগ উঠেছিল। যদিও অস্বীকার করেছিলেন প্রধান শিক্ষক। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন খোদ শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu)।  থানা ঘেরাও করে প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছিলেন শিক্ষকরা।

অপরদিকে, হাইকোর্টের নির্দেশে, সশস্ত্র পুলিশ পাহারায় সরস্বতী পুজো হল যোগেশচন্দ্র চৌধুরী আইন কলেজে। কলেজের গাড়ি বারান্দা নয়, পাশের গলিতে প্যান্ডেল করে পুজোর আয়োজন করল যোগেশচন্দ্র চৌধুরী কলেজের ডে বিভাগের পড়ুয়ারা। ২ পক্ষের  সংঘাতের জেরে বেনজিরভাবে পুলিশি প্রহরায় হল বাগদেবীর আরাধনা। অনেকে বলছেন, এটাই দেখার বাকি ছিল!পুলিশি পাহারায় বাগদেবীর আরাধনা!শুক্লবর্ণা দেবীর বন্দনাতেও কি না পুলিশ রাখতে হল।

কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে রবিবার এভাবেই কড়া পুলিশি প্রহরায় যোগেশচন্দ্র চৌধুরী আইন কলেজে হল সরস্বতী পুজো। কলেজের গেটের বাইরে পুলিশ- কলেজের ভিতরে পুলিশ- কলেজে ঢোকার মুখে পুলিশ। গেটে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ। বাইরের কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এখানে আইকার্ড দেখিয়ে তবেই ভিতরে ঢুকতে পারছে পড়ুয়ারা। 

 গীতার শ্লোকে বলা হয়েছে, ‘সত্ত্বাৎ সংজায়তে জ্ঞানং’ , অর্থাৎ সত্ত্বগুণে জ্ঞান লাভ হয়। তাই জ্ঞানময়ী সর্বশুক্লা দেবী সরস্বতী জ্ঞানে গুণান্বিত বলে তার গায়ের রঙ শুক্লবর্ণ অর্থাৎ দোষহীনা। কিন্তু তিনি স্বচ্ছতা-নির্মলতার প্রতীক হলেও বঙ্গ জীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখন যে অস্বচ্ছতা বাসা বেধেছে। তার জেরে এই ছবিও দেখতে হল! তাও খাস কলকাতার বুকে। কলেজের গেটের বাইরে বেঞ্চ পাতা...সরস্বতী পুজোর দিন সেই বেঞ্চে বসে পড়ুয়ারা শাড়ি-পাজামা-পাঞ্জাবী পড়ে আড্ডা দিচ্ছেন, এমনটা নয়, বসে রয়েছেন, সাদা উর্দি পড়া কলকাতা পুলিশের একঝাঁক পুরুষ-মহিলা কর্মী। 

আরও পড়ুন, হয়নি ময়নাতদন্ত, নেই ডেথ সার্টিফিকেট, এই অবস্থাতেই কুম্ভে প্রিয়জনের নিথর দেহ ফেরত পাচ্ছে পরিবার !

কেউ আবার চেয়ারে বসে, তো কেউ দাঁড়িয়ে, কারও হাতে আবার স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র। অনেকেরই এক ঝলকে দেখে মনে হতে পারে কলেজে ভোট হচ্ছে, তাই বাইরে পুলিশি পাহারা, কিন্তু আদতে এই ব্য়বস্থা নির্বিঘ্নে সরস্বতী পুজো করার জন্য় যোগেশচন্দ্র আইন কলেজে বাগদেবীর আরাধনা....ভিতরে বীণা হাতে দেবী সরস্বতী...বাইরে বন্দুক হাতে পুলিশ। বীণা রঞ্জিত পুস্তক হস্তে অর্থাৎ যে দেবীর একহাতে বীণা ও অন্য হাতে পুস্তক, তাঁরই পুজো হল বন্দুক হাতে দণ্ডায়মান পুলিশের নজরদারিতে!