রাজীব চৌধুরী, মুর্শিদাবাদ: হাইকোর্টের নির্দেশে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) বড়ঞায় বেআইনিভাবে তৈরি তৃণমূলের (TMC) পার্টি অফিস ভাঙতে আনা হল বুল ডোজার। সপ্তাহ দুয়েক আগে প্রথমবার এই বাড়ি ভাঙার কাজ শুরু হয়। সরকারি জমি দখল করে বেআইনি নির্মাণ করেছিল তৃণমূল (tmc), একযোগে আক্রমণ বিজেপি, কংগ্রেসের। বেআইনি নির্মাণকে পার্টি অফিস বলে মানতে নারাজ শাসক শিবির। 

Continues below advertisement

ভাঙা হল তৃণমূলের পার্টি অফিস: বুলডোজার এনে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে দোতলা বাড়ি। হাইকোর্টের নির্দেশে মুর্শিদাবাদের বড়ঞায় ভাঙা হল তৃণমূলের পার্টি অফিস। পূর্ত দফতরের জমিতে এই বাড়ি তৈরি করা নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ স্থানীয়দের। তাঁদের অভিযোগ,বড়ঞা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধানের স্বামীর মদতে এখানে তৈরি হয় তৃণমূলের পার্টি অফিস। 

নিয়োগ দুর্নীতিতে জেলযাত্রার আগে বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা এখানেই বসতেন বলে দাবি। হাইকোর্টের নির্দেশে গত ২৪ মে, প্রথমবার এই বেআইনি নির্মাণে প্রশাসনের হাত পড়ে। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় সরকারি জমিতে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু হয়। ৫টি বুলডোজার এনে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ইমারত। দিনকয়েক আগে আদালতে ঢোকার সময়, নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত বড়ঞার তৃণমূল বিধায়কও এখানে তাঁর অফিস থাকার অস্বীকার করেন। 

Continues below advertisement

সাংবাদিক: জীবন দা, আপনার বিভিন্ন অফিস-টফিস ভেঙে দেওয়া হচ্ছে, কী বলবেন? সাংবাদিক: আপনার অফিস ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।  সাংবাদিক: বিভিন্ন অফিস গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জীবনকৃষ্ণ সাহা, নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত তৃণমূল বিধায়ক:  যেটা ইললিগাল, সেটা তো ভাঙবেই।সাংবাদিক: মানে আপনি ইললিগাল কাজ করতেন?জীবনকৃষ্ণ সাহা, নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত তৃণমূল বিধায়ক: ওটা আমার অফিস না। 

জেলবন্দি তৃণমূল বিধায়ক এই দাবি করলেও, সরকারি জমিতে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে শাসকদলকে নিশানা করেছে বিরোধীরা। মুর্শিদাবাদ দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার বিজেপির জেলা সভাপতি শাখারভ সরকারের কথায়, কোর্টের গুঁতো খাওয়া ছাড়া নিজেদের ইচ্ছায় কাজ করবে না, ওটাও ভাঙত না, অপর গোষ্ঠীর পার্টি অফিস বলে ভেঙেছে। 

মুর্শিদাবাদ কংগ্রেস জেলা মুখপাত্র জয়ন্ত দাসের কথায়, নামে পার্টি অফিস পাশে দোকানঘর বিক্রি, স্বাভাবিক কারণে ভেঙে দিয়েছে। বেআইনি বাড়িতে তৃণমূলের অফিসের কথা যদিও অস্বীকার করেছে শাসকদল। বড়ঞার তৃণমূলের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ ও ব্লক সহ সভাপতি মাহে আলমের কথায়, বড়ঞা ব্লকের বিভিন্ন প্রান্তে সভা সমিতি করি, নির্দিষ্ট কার্যালয় রয়েছে। এদিন, পুলিশ-প্রশাসনের উপস্থিতিতে ভেঙে ফেলা হয় বেআইনি নির্মাণ।