আবির দত্ত, মুর্শিদাবাদ : ওয়াকফ-হিংসায় ফের আগুন জ্বলল ধুলিয়ানে। এবার তৃণমূল পরিচালিত ধুলিয়ান পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যানের দাদার দোকানে আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ধুলিয়ানের উপ পুরপ্রধান সুমিত সাহার দাদা প্রবীর সাহার ধুলিয়ানের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে কসমেটিক্সের দোকান রয়েছে। ব্যবসায়ীর পরিবারের সন্দেহ, বুধবার সকালে দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। 

ঘটনাস্থল থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে ব্যবসায়ীর বাড়ি। তিনি এসে দেখেন সব শেষ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল, পুলিশের নজরদারি, তারপরও কীভাবে তাণ্ডব? উঠছে প্রশ্ন।  

হাইকোর্টের দ্বারস্থ  শুভেন্দু

এরই মধ্যে ধুলিয়ানে যেতে চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মামলা দায়েরের অনুমতি দিলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। বুধবারই বিকেলে এই মামলার শুনানি হবে। 'অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের অনুমতি দিলেও শুভেন্দু অধিকারীকে কিছু জানাচ্ছে না পুলিশ', হাইকোর্টে দাবি বিরোধী দলনেতার আইনজীবীদের। 

 NIA তদন্তের আবেদন

অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের ঘটনায় NIA তদন্তের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন আক্রান্তরা। মলাকারীদের প্রত্যেকের বাড়িতে বা বাড়ির কাছে বোমাবাজি হয়েছে বলে অভিযোগ। পুলিশকে বারবার ফোন করলেও কোনও সাহায্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি করছেন তাঁরা। দাবি, 'ই-মেল মারফত অভিযোগ জানানো হলেও, কোনও পুলিশি সাহায্য মেলেনি'।  মামলা দায়েরের অনুমতিও দিয়েছে আদালত। বুধবার, এই মামলার শুনানি হবে। 

মুর্শিদাবাদে যাচ্ছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন়           

ওয়াকফ-বিক্ষোভে অশান্ত মুর্শিদাবাদ। প্রাণ গিয়েছে ৩ জনের। আতঙ্কে ঘরছাড়ারা কেউ পালিয়ে গেছেন মালদায়, কারও ঠাঁই হয়েছে ঝাড়খণ্ডে। এই প্রেক্ষাপটে মুর্শিদাবাদে যাচ্ছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বিশেষ টিম গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৩ সপ্তাহের মধ্য়ে তদন্ত রিপোর্ট কমিশনে জমা দিতে হবে।  মুর্শিদাবাদে হিংসার ঘটনা নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ জমা পড়ে। তার ভিত্তিতেই প্রতিনিধিদল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ওই প্রতিনিধিদল রিপোর্ট জমা দিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলে NHRC-র তরফে জানানো হয়েছে। 

থমথমে ভাঙড়ও                

মুর্শিদাবাদ ছাড়া ভাঙড়েও ওয়াকফ-বিক্ষোভে অশান্তির আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সেখানেও প্রবল চলছে ধরপাকড়। ধৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৬। হাতিশালা থানার পুলিশ ৩ জনকে এবং উত্তর কাশীপুর থানার পুলিশ গতকাল আরও ৪ জনকে গ্রেফতার করে। প্রথম দফায় ৯ জন ISF কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তারা বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। আরও কয়েকজনের খোঁজ চলছে। সোমবারের ঘটনার পর এখনও থমথমে ভাঙড়।