অর্ণব মুখোপাধ্যায়, পলাশি : আজ নদিয়ার কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনে লড়াই ত্রিমুখী। প্রয়াত তৃণমূল বিধায়ক নাসিরউদ্দিন আহমেদের কন্যা আলিফা আহমেদকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। সকাল সকাল পলাশিতে মীরা ১- এ ভোট দিয়েছিলেন আলিফা। সঙ্গে ছিলেন তাঁর ভাই। এদিন সকাল থেকে নদিয়ার কালীগঞ্জ বিধানসভার বেশ কয়েকটি বুথ থেকে সমস্যার অভিযোগ এসেছে। মূলত অভিযোগ এজেন্ট বসানোকে কেন্দ্র করেই। বিরোধীদের অভিযোগ শাসকদল তাদের এজেন্ট দিতে দিচ্ছে না বিভিন্ন বুথে। এই প্রসঙ্গে এদিন আলিফা আহমেদ বলেছেন, 'আমাদের কালীগঞ্জে তৃণমূল সংগঠন খুব শক্তিশালী। বিজেপি যদি এজেন্ট না দিতে পারে, আমি ওদেরকে বলব সংগঠনের কাজ করুন, মানুষের পাশে থাকুন যাতে আগামী দিনে আপনারাও এজেন্ট দিতে পারেন এবং লড়াই সমান সমান হবে। আমাদের সংগঠন শক্তিশালী এটাই তার পরিচয়। মানে কেউ এজেন্ট না দিতে পারলে, সেটা আমাদের দোষ নয়। আমরা সব জায়গায় আছি। সব বুথে বুথে আছি। মানুষের সমর্থন আছে। দোয়া, আশীর্বাদ আছে এবং আমার বিশ্বাস আগামী দিনে মানুষের আশীর্বাদ আমরা পাব।'
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দেখা গিয়েছে কালীগঞ্জ বিধানসভার বিভিন্ন বুথের সামনের বেহাল রাস্তার দশা। কাদা জমেছে রাস্তায়। পিছল হয়ে গিয়েছে রাস্তা। গতকাল থেকে টানা বৃষ্টির জেরে অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। প্রসঙ্গত এখানে যে রাস্তার হাল খারাপ তা আগেও দেখা গিয়েছে। কারণ এই আলিফা আহমেদের জন্য যখন প্রচার করতে জুন মালিয়া এবং ফিরহাদ হাকিম গিয়েছিলেন কালীগঞ্জ বিধানসভায়, তখনও সাধারণ মানুষ তাঁদের কাছে ছুটে গিয়েছিলেন বেহাল রাস্তা ভাল করে দেওয়ার আর্জি নিয়ে। আজ সকাল থেকেই কালীগঞ্জ বিধানসভার বিভিন্ন বুথের সামনের যে বেহাল রাস্তার দশা প্রকাশ্যে এসেছে এই প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে আলিফা বলেন, 'দেখুন রাস্তাঘাটের প্রচুর কাজ হয়েছে। রাস্তা একটা তৈরী করার পর, সেই রাস্তা কখনও কখনও আমরা বর্ষাকালে দেখি যে একটু খারাপ অবস্থা হয়। তার মেরামতও হয়। পুরো কালীগঞ্জ জুড়ে প্রচুর কাজ হচ্ছে। বর্ষার জন্যই অসুবিধাটা হচ্ছে।' আলিফা আহমেদ এও বলেছেন যে মানুষ যাতে সহজে ভোট দিতে আসতে পারেন, তার ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে। এদিন আলিফার সঙ্গে ভোট দিতে এসেছিলেন তাঁর ভাইও। জামেশেদপুর থেকে এমবিএ করেছেন তিনি। এখন আইটি ফার্মে চাকরি করেন। তিনি বলেছেন, 'বাবার প্রতিচ্ছবি বোনের মধ্যে খুঁজে পাই। বাবার মধ্যে যে গুণগুলো ছিল, বোনের মধ্যেও সেগুলো আছে। একজন দায়িত্বশীল ভাই হিসেবে বোনকে সাপোর্ট করতে এসেছি।'