কলকাতা: নৈহাটির বড়মা। মায়ের অলৌকিক শক্তিতে বিশ্বাস রেখেই চরণে মাথা নত হয় লক্ষ লক্ষ ভক্ত-দর্শনার্থীদের। অনেকেই মনে করেন, দেবীর পায়ে এক বার মাথা ঠেকালে মনের বাসনা পূর্ণ হবেই। আর সেই কারণেই প্রতি বছর দূরদূরান্ত থেকে অগুণিত ভক্তদের ছুটে আসা।

Continues below advertisement

সারা বছরই দেবীর নিত্যপুজো হয়ে থাকে। প্রতি সপ্তাহে সোমবার, বুধবার ও শুক্রবার মন্দির প্রাঙ্গণে প্রায় ৭০০ জন ভক্তকে বসিয়ে ভোগ প্রসাদ খাওয়ানো হয়। এছাড়াও শনিবার ও মঙ্গলবার প্রায় ৩০০০ জন ভক্তকে নিঃশুল্ক ভোগ বিতরণ করা হয়। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আঁচ পড়ল প্রসাদে। পশ্চিমবঙ্গে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের ঘাটতির জেরে এবার এই বিপুল অন্নভোগ বিলি সাময়িকভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল নৈহাটির বড়কাী পুজো সমিতি ট্রাস্ট। 

ট্রাস্টের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বলা হয়েছে,' রান্নার গ্যাস সরবরাহ স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য আগামী সোমবার ১৬/০৩/২০২৬ থেকে বড়মা'র মন্দিরে নিঃশুল্ক (সোম, বুধ ও শুক্রবার মন্দিরে বসে ভোগ প্রসাদ খাওয়ানো হয় আনুমানিক ৭০০ জন এবং শনি ও মঙ্গলবার আনুমানিক ৩০০০ জনকে নিঃশুল্ক) ভোগ প্রসাদ বিতরণ, অনিচ্ছাকৃত সত্ত্বেও আমাদের বন্ধ রাখতে হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পুনরায় আবার শুরু করা হবে।' 

Continues below advertisement

মন্দির কমিটির সদস্য অয়ন সাহা বলেন, 'আমাদের এখানে ভক্তদের জন্য ভোগ রান্নার ক্ষেত্রে যতটা গ্যাস সিলিন্ডারের প্রয়োজন তা পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার সঙ্গেও কথা বলি এ বিষয়ে। কিন্তু আমাদের যে চাহিদা আছে সেই অনুযায়ী যোগান পাওয়া যাবে না তা স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে কমিটির তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যতদিন না এই গ্যাস সমস্যা মিটছে ততদিন ভোগ প্রসাদ বিতরণ বন্ধ রাখছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় শুরু হবে।' 

বহু দূরদূরান্ত থেকে মায়ের দর্শন ও ভোগ গ্রহণ করতে ছুটে যান ভক্তরা। মায়ের একটু ভোগ প্রসাদ পাওয়ার আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতেও দ্বিধাবোধ করেন না তাঁরা। তবে এবার কি শুধু মাকে দর্শন করেই ফিরতে হবে তাঁদের? অয়নবাবুর কথায়, 'মায়ের কাছে ফল, মিষ্টি যে যা নিবেদন করে সেই প্রসাদ সকলের মধ্যেই বিতরণ করে দেওয়া হয়, তেমনটা চলবে। সেই প্রসাদ সকলেই পাবেন। আপাতত ভোগ প্রসাদ বন্ধ করতে হচ্ছে গ্যাসের অনিশ্চয়তার জন্য।'  

তবে শুধু নৈহাটির বড়মার মন্দিরেই নয়। একাধিক মন্দিরে ভোগ বন্ধের কিংবা প্রসাদ বিলিতে কাটছাঁট করা হয়েছে। কলকাতার ইসকনে, ৩ বেলা খিচুড়ি রান্নার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লেক কালীবাড়িতেও দেখা দিয়েছে গ্যাসের সঙ্কট। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে, ৩ হাজারের বদলে সাড়ে ৭০০ লোকের খাবারের আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরে ভোগপ্রসাদ বিতরণ বন্ধ রাখছে কর্তৃপক্ষ।