সন্দীপ সরকার, বিটন চক্রবর্তী, সোমনাথ মিত্র, নন্দীগ্রাম: নন্দীগ্রামে ২-এর রানিচক সমবায় সমিতির ভোটে জয়ী তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থীরা। শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে রানিচক সমবায় সমিতির নির্বাচনে ২৭টি আসনে জয়ী তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিত প্রার্থীরা। ১৮টি আসনে জয় পেল বিজেপি সমর্থিত প্রার্থীরা। বিরোধী দলনেতার বিধানসভা কেন্দ্রের রানিচক সমবায় সমিতির নির্বাচন ঘিরে রাত থেকেই শুরু হয় সংঘর্ষ। তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বচসা, হাতাহাতি। 

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, "কমিশন মানুষের ভোটাধিকার লুণ্ঠন করতে ব্যস্ত", জাতীয় ভোটার দিবসে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর

Continues below advertisement

পুলিশের সামনে বিজেপি কর্মীদের দিকে এভাবেই তেড়ে যেতে দেখা যাচ্ছে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের। রবিবার সমবায় সমিতির ভোট ঘিরে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গড় হিসেবে পরিচিত। সেই নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের রানিচক সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি লিমিটেড ধরে রাখল তৃণমূল।৪৫টি আসনের মধ্যে ২৭টি আসনে জয়ী তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থীরা। ১৮ আসনে জয় পেলেন বিজেপি সমর্থিত প্রার্থীরা।ভোটের ফল প্রকাশ হতেই শুরু হয় উত্তেজনা। পুলিশের সামনেই লাঠি হাতে তেড়ে যেতে দেখা গেল তৃণমূল নেতা-কর্মীদের। নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল নেত্রী  পুষ্পিতা গিরি বলেন, এখানের মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছে, নন্দীগ্রামের মানুষ টাকায় বিক্রি হয়না। অনেক টাকা পয়সা উড়িয়েছে ওরা। নন্দীগ্রামের মানুষ নোংরা কথা বিশ্বাস করে না। ভাঁওতাবাজি বিশ্বাস করে না।  তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সাধারণ সম্পাদক  মেঘনাদ পাল বলেন, মোট ৩৯ টা সমবায় সমিতি। তার মধ্যে তিনটে বাদ দিয়ে ৩৬ টি সমবায় সমিতির ভোট হয়েছে। ২৯ টি ভারতীয় জনতাপার্টি জয়লাভ করেছে। একটা সমবায় সমিতি। এখানে সংখ্য়ালঘুরা আছে। জয়লাভ করেছে। '২৬-এ বিধানসভা নির্বাচন আছে। নাকে ঝামা ঘষে দেব। ভোটের আগের রাত থেকে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সহ-সভাপতি প্রলয় পাল বলেন, প্রত্য়েকটা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস যেটা করে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করা। কাল রাত ১২টার সময় সাতেঙ্গাবাড়ি থেকে মুসলিমদের এনে হিন্দুদের, হরিজন পল্লিতে ঢুকে মহিলাদের ইজ্জতহানি করার চেষ্টা করছিল। হিন্দুরা জেগেছিল। তার পাল্টা উত্তরটা দিয়েছে। 

 নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস কোর কমিটি সদস্য শেখ কাজেহার বলেন,রাত ১০টার পরে যে যার বাড়িতে আছে, যে যার বুথে ছেলেপুলেরা আছে। আমাদের এক প্রার্থীর বাড়িতে গিয়ে ঘর ভাঙচুর। আমরা প্রশাসনকে বললাম, বলল আমরা দেখছি। মারধর করছে, গালাগালি করছে। কিছু ছেলেপুলে আমাদের রাস্তায় ঘুরছিল। সেখানে কয়েকজন দুষ্কৃতী বাইরের তারা এসে হামলা। সব বিজেপির দুষ্কৃতীরা। ভোটের দিন সকাল থেকেই মোতায়েন ছিল, পুলিশ। ছিল RAF, কমব্য়াট ফোর্স। পাখির চোখ নন্দীগ্রাম। বিধানসভা ভোটের আগে শুভেনদু অধিকারীর গড় এই নন্দীগ্রামেই সেবাশ্রয় ক্যাম্পের উদ্বোধন করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়।এই আবহেই এই জয় তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে তৃণমূল। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক  কুণাল ঘোষ বলেন, অভিষেকের সেবাশ্রয়ের পর জয় এ নিয়ে বলবে।বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সামগ্রিকভাবে ৩৩টির মধ্য়ে ২৯টিতে আমাদের সমর্থিত লোকেরা জিতেছে এবং চোরেরা হেরেছে। অতএব  এখানকার মানুষ ২০২১ সাল থেকে  প্রকৃত পরিবর্তনের পক্ষে লড়াই করছেন। যেটা দেখে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ হয়তো আগামী বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামের দেখানো পথে হাঁটবেন। 

অন্যদিকে হুগলির তারকেশ্বরে।পিয়াসাড়া স্টেশনপট্টি সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির ভোটে প্রকাশ্যে এল তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল। তৃণমূলেরই দুপক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে।যদিও পুলিশের উপস্থিতিতে পরে স্বাভাবিক হয় পরিস্থিতি।