শিবাশিস মৌলিক, সিঙ্গুর : বিধানসভা ভোটের এখনও দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি। কিন্তু তার আগে পশ্চিমবঙ্গে কার্যত প্রচারে ঝড় তুলেছেন নরেন্দ্র মোদি। শনিবার মালদার পর রবিবার সিঙ্গুরে সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১১ সালে রাজ্য় রাজনীতির পট পরিবর্তনে বড় ভূমিকা নিয়েছিল সিঙ্গুর, টাটা বাংলা ছেড়েছিল! সিপিএমের সুদীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় রাইটার্স বিল্ডিংয়ের ক্ষমতায় বসেছিলেন । যে সিঙ্গুরে কথা ছিল শিল্প হবে, কর্মসংস্থান হবে, সেসব ঘিরে তৈরি হবে অনুসারী শিল্প। কিন্তু আদতে হয়নি কিছুই।
তারপর হুগলি নদী দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। রং বদলেছে বাংলার রাজনীতির ক্যানভাসে। গেরুয়া পোঁচ গাঢ় হয়েছে সবুজের পাশাপাশি। সেই সময় যে মমতার সঙ্গী ছিলেন শুভেনদু অধিকারী-মুকুল রায়রা, তাঁরাই পরে বিজেপিতে যোগ দেন। তাঁরাই সিঙ্গুর থেকে টাটাদের সরানো নিয়ে ভুল স্বীকার করেন পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে। এবার সেই সিঙ্গুরেই সভা করতে চলেছেন খোদ নরেন্দ্র মোদি, যখন পশ্চিমবঙ্গ-বিজেপির মূল কাণ্ডারী সেই সময় মমতার সদাসঙ্গী শুভেন্দু অধিকারী।
দুপুর পৌনে ৩ টে নাগাদ সিঙ্গুরে পৌঁছবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে প্রায় ৮৩০ কোটি টাকার প্রকল্পের সূচনা ও শিলান্যাস করবেন নরেন্দ্র মোদি। এরপর দুপুর সাড়ে ৩টেয় জনসভা করার কথা রয়েছে তাঁর। বুধবার সভাস্থল খতিয়ে দেখতে সিঙ্গুরে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্রায় ২০০ কৃষকের হাতে প্রধামন্ত্রীর সভার আমন্ত্রণ পত্র তুলে দেন তিনি। আজ মোদির সভায় দর্শক আসনের সামনের সারিতে ওই কৃষকরা থাকবেন বলে জানান সুকান্ত মজুমদার। সিঙ্গুরে দাঁড়িয়ে টাটাকে ফেরানোর আশ্বাস দেন তিনি। প্রত্যয়ের সঙ্গে সুকান্ত বলেন, ' বিজেপির সরকার আসবে। এবং এখানে শিল্প তৈরি হবে। টাটারাও ফিরবে এবং অন্যান্যরাও ফিরবে। '
২০২৫-এ পাঁচ-পাঁচ বার পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন খোদ নরেন্দ্র মোদি। বছর শেষে রাজ্যে ঘুরে গিয়েছেন অমিত শাহ। আড়াই সপ্তাহের মাথায় ফের পশ্চিমবঙ্গে এলেন প্রধানমন্ত্রী। সঙ্গে আনলেন একগুচ্ছ প্রকল্পের উপহার। এই সিঙ্গুর আন্দোলনের জন্যই পশ্চিমবঙ্গ থেকে কারখানা সরাতে হয়েছিল টাটাকে। ৩৪ বছরের বাম শাসনে ইতি টেনে ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে কি পশ্চিমবঙ্গবাসীর জন্য বিরাট কিছু ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী ? প্রতীক্ষা এখন তারই।