গান্ধীনগর: ফের ভূমিকম্প। ফের সেই গুজরাত। শুক্রবার ও শনিবারের মাঝামাঝি কেঁপে উঠল গুজরাতের কচ্ছ। এখনও ভুজের ভূমিকম্পের আতঙ্ক কাটেনি। সেই মৃত্যুমিছিল, হাহাকার, আর্তনাদ, এখনও গুজরাতের কানে বাজে। এবার ভূমিকম্পের তীব্রতা ৪.১ মাপা হয়েছে। এই ভূমিকম্পে হতাহত বা সম্পত্তির কোনো ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
গান্ধীনগরের ভূমিকম্প গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইএসআর)- র দেওয়া তথ্য অনুসারে, গভীর রাতে ১টা ২২ মিনিটে ভূমিকম্পটি হয়। এর কেন্দ্র কচ্ছ জেলার খাওড়া থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে। ভূমিকম্পের ধাক্কা অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ ভয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে।
সরকারি আবেদন
জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং সমস্ত সংশ্লিষ্ট বিভাগকে সতর্ক করা হয়েছে। আধিকারিকদের মতে, এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের প্রাণহানি বা ভবনের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসন জনগণকে শান্তি বজায় রাখতে এবং গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।
কচ্ছর ২০০১ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্প
উল্লেখ্য, কচ্ছ জেলা খুবই ভূমিকম্পপ্রবণ। এখানে প্রায়ই কম তীব্রতার ভূমিকম্প হতে থাকে। তাই প্রশাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলি সবসময় সতর্ক থাকে। কচ্ছতে ২০০১ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের স্মৃতি আজও মানুষের মনে টাটকা। ২০০১ সালের ২৬ জানুয়ারী ভারতের ৫২তম সাধারণতন্ত্র দিবসের দিন, সকাল ০৮:৪৬-এ সংঘটিত হয়। ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল ভারতের গুজরাত রাজ্যের কচ্ছ জেলার ভচাউ তালুকের চৌবারি গ্রাম থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে ।
কচ্ছে সেই বিধ্বংসী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ছিল ১২,৩০০। গুজরাতের আঞ্জার, ভূজ ও ভাচাউ তালুকের শয়ে শয়ে গ্রাম মাটিতে মিশে যায়। ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হয় গুজরাত। ভুজ এলাকার প্রায় ৪০% বাড়িঘর, বহু স্কুল, হাসপাতাল এবং পাকা রাস্তা ধসে যায়।