রাণা দাস, পূর্ব বর্ধমান: কাঠের পেঁচা, রাজা-রানি কিংবা গৌর-নিতাই—শিল্পীদের হাতের জাদুতে কাঠ যেখানে জীবন্ত রূপ পায়, সেই স্থান হল পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর নতুনগ্রাম। ৩০০ বছরের পুরনো এই ঐতিহ্যবাহী পুতুল শিল্প এবার পেল এক ঐতিহাসিক গৌরব। বহু প্রতীক্ষিত জিআই ট্যাগ (GI Tag) পেল নতুনগ্রামের কাঠের পুতুল (Natungram wooden dolls)।
নতুনগ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলছে এই পুতুল তৈরির কাজ। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে শিল্পীদের ভাবনাও। শুধু ঐতিহ্যবাহী পুতুলেই আটকে না থেকে, আধুনিক বাজারের চাহিদা মিলিয়ে তাঁরা এখন তৈরি করছেন টেবিল ল্যাম্প, ঘড়ি, ঘর সাজানোর নানা আকর্ষণীয় সামগ্রী ও আসবাবপত্র। অনলাইনের হাত ধরে যা পাড়ি দিচ্ছে ভিনরাজ্যেও। শিল্পীদের মতে, এই জিআই স্বীকৃতির ফলে একদিকে যেমন বিশ্ববাজারে তাঁদের পুতুলের কদর বাড়বে, তেমনই বাজারে আসল পুতুলের নামে যে নকল পুতুল বিক্রি হচ্ছিল, তাও এবার বন্ধ হবে।
নতুনগ্রামের এই শিল্পকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে এবার এগিয়ে এসেছে ইউনেস্কো (UNESCO)। ইউনেস্কোর একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল ঘুরে গিয়েছে এই পুতুলের গ্রামে। তাঁরা শিল্পীদের কর্মশালা ঘুরে দেখেন এবং জানান, শীঘ্রই কাষ্ঠশিল্পীদের নিয়ে একটি বিশেষ প্রকল্প শুরু করা হবে। যেখানে আধুনিক ডিজাইন থেকে শুরু করে মার্কেটিং—সবকিছুর সরাসরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের শিল্প বিভাগের আধিকারিকরাও শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং স্থানীয় বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায়ের মতে, রাজ্য সরকারও এই শিল্পকে দেশের বাইরে পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর।
ঝাঁ চকচকে ফ্ল্যাটের ডাইনিং হল বা কোনও ছিমছাম ঘরে যদি নতুনগ্রামের ছোট্ট কাঠের পুতুল থাকে, তা হলে সেই স্থানের শোভাই এক্কেবারে বদলে যায়। এবার সেই শিল্পকর্মই পেয়েছে জিআই স্বীকৃতি। তার সঙ্গে রয়েছে ইউনেস্কোর এই উদ্যোগ। তা হলে এবার কি নতুনগ্রামের শিল্পীদের ভাগ্য পুরোপুরি বদলে যাবে? তেমন আশাই অবশ্য করছেন নতুনগ্রামের কাঠের পুতুল তৈরির কারিগররা।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার জনাইয়ের অতি জনপ্রিয় মিষ্টি 'মনোহরা' পেয়েছে জিআই ট্যাগ। পাশাপাশি বাঁকুড়া শহরের শাঁখারি পাড়া ও ইন্দপুরের হাটগ্রামের শঙ্খ শিল্পও পেয়েছে জিআই স্বীকৃতি। এখানেই শেষ নয়, বাঁকুড়ার বেলিয়াতোড়ের 'মেচা সন্দেশ'ও পেয়েছে জিআই তকমা। আর এই জিআই তকমা পাওয়ার তালিকায় রয়েছে মালদার আশাপুরের বেগুন এবং 'শান্তিনিকেতনী বাটিকও।'
