কলকাতা: লোকসভায় চুরমার তৃণমূল, কার দখলে প্রতীক? বিদ্রোহী না কালীঘাট, কার হাতে থাকবে তহবিল? 'যা হওয়ার তাই হচ্ছে', দিল্লি থেকে ফিরেই জানিয়ে দিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন, এবার দমদম পুরসভাতেও ভাঙন, ইস্তফা দিলেন পুরপ্রধান
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘যা হবার তা হচ্ছে, ২০ জন এসেছে, তাঁরা একটা দলের সঙ্গে মার্জ করেছে। ২০ জুলাই পার্লামেন্ট খুলবে। সব পক্ষ যাবে। স্পিকার ঠিক করবে। আদালতে যাবে, ফ্যাসলা হবে। ..মহারাষ্ট্রে হয়েছে তো।’ দীর্ঘ জল্পনা-আলোচনা-বৈঠকের পর বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা মিশে গেলেন NCPI নামে একটি অচেনা দলের সঙ্গে। বিদ্রোহীদের তালিকায় স্পিকারের সামনে সই করলেন সুদীপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ও। এখন প্রশ্ন হল, এবার তাঁর স্ত্রী নয়না বন্দ্য়োপাধ্য়ায় কী করবেন? জন্ম হয়েছিল কালীঘাটে। কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল তৈরি করেছিলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। তাঁরই দলের সংখ্য়াগরিষ্ঠ লোকসভার সাংসদরা আগেই নতুন ব্লক তৈরি করেছিলেন। এমন একটি দলে মিশে যাওযার ঘোষণা করলেন যাঁর নাম আগে কজন শুনেছেন সন্দেহ আছে। এই আবহেই সোশাল মিডিয়ায় বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য় সভাপতি তথাগত রায় কটাক্ষ করে লিখেছেন। চার বছর আগে রেজিস্ট্রিকৃত ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি', ঠিকানা বাঁকড়া, হাওড়া। সেই পার্টিতে মিশে গেল বিক্ষুব্ধ তৃণমূলীরা।
এদিকে নতুন প্রশ্ন হল, সুদীপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়, মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের সঙ্গ ছাড়ার পর তাঁর স্ত্রী, তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্য়োপাধ্য়ায় কী করবেন? সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জিতেছি ভোট কলকাতা শহর থেকে। লোকসভা, বিধানসভা মিলে ১০ বার। আমার স্ত্রী চৌরঙ্গী বিধানসভা থেকে ৫ বার জিতেছে। তাহলে স্বামী-স্ত্রী মিলিয়ে একটা পরিবার থেকে জিতেছে ১৫ বার। স্বাধীন ভারতে দ্বিতীয় কোনও পরিবার নেই। 'বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেন, সুদীপ দা বা নয়না দি, কারোর সঙ্গেই আমার কথা হয়নি। কথা হয়নি মানে এই নয় যে রাত্রিবেলা সুদীপদার সঙ্গে কথা হবে না বা কালকে নয়না দির সঙ্গে কথা হবে না। এখন এই সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে। '
পাল্টা কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছে মমতাপন্থী তৃণমূল। কুণাল ঘোষ বলেন, সুদীপদা ২-৩ দিন আগে ফোন করেছিলেন। ৩-৪ দিন আগে। যে এই কুণাল, মমতার বাড়িতে সিআইডি গেছে? আমি বললাম হ্যাঁ দাদা আমি পৌঁছে গেছি, আমি আছি ওখানে। বলল, তো থাকো, নয়না ওখানে যাচ্ছে। আমি অপেক্ষা করছিলাম। অপেক্ষা করতে করতে দেখি রাত এল, ভোর হল, দুপুর হল, আবার রাত এল, দিন বদলাল, নয়না দি এসে পৌঁছলেন না।'এদিকে কুণাল ঘোষের বিতর্কিত মন্তব্য় প্রসঙ্গে নয়না বন্দ্য়োপাধ্য়ায় কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়েছেন। কুণাল ঘোষ যা বলেছেন, তারপর দল তাঁর বিরুদ্ধে ব্য়বস্থা না নিলে, তিনি তৃণমূল থাকবেন কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
