নয়াদিল্লি: ডাক্তারির স্নাতকস্তরে ভর্তির পরীক্ষা NEET-এর প্রশ্ন ফাঁসের মামলায় সামনে এল নতুন তথ্য। এবার CBI-এর স্ক্যানারে মহারাষ্ট্রের লাতুরের একটি বড় কোচিং সেন্টার। জানা গেছে, এই কোচিং সেন্টারটির বাৎসরিক আয় ১০০ কোটিরও বেশি। অভিযোগ উঠেছে যে, এই প্রতিষ্ঠানের মক টেস্টের বহু প্রশ্ন NEET 2026-এর আসল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলে গেছে। সূত্রের খবর, ধৃত অন্যতম অভিযুক্ত পিভি কুলকার্নি এবং কোচিং সেন্টারের কর্তার মধ্যে আগে থেকেই পরিচয় ছিল। কিংপিন কুলকার্নির সঙ্গে লাতুরের কোচিং সেন্টারের কর্তাকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, খবর CBI সূত্রে।
আরও পড়ুন, আজ থেকেই 'জনতার দরবার' শুরু করলেন মুখ্যমন্ত্রী, শুভেন্দুর কাছে কী আর্জি সাধারণ মানুষের ?
প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ইতিমধ্যেই CBI তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তদন্তকারী সূত্রে খবর, রাজস্থান পুলিশের স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপ ইতিমধ্যেই ১৮ জনকে আটক করেছে।তদন্তকারী সূত্রে খবর, পরীক্ষার আগে থেকেই বিভিন্ন সমাজমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ঘুরে বেড়াচ্ছিল।একটি হোয়াটসঅ্য়াপ গ্রুপেরও সন্ধান পায় তদন্তকারীরা। রাজস্থানের সীকর জেলা থেকে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ে বলে দাবি তদন্তকারীদের। ২০২৪ সালেও এই মে মাসেই NEET-এর প্রশ্ন ফাঁস হয়। সেবার ফাঁস হয় নিট-পিজির প্রশ্নপত্র। দু'বছর পর ফের সেই পরীক্ষাতেই প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা। এক্স পোস্টে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী লিখেছেন, ২২ লক্ষেরও বেশি ছাত্রছাত্রীর কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ এবং স্বপ্ন ভেঙেচুরে তছনছ হয়ে গিয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর তথাকথিত ‘অমৃত কাল’ দেশের জন্য ‘বিষ কাল’-এ পরিণত হয়েছে। জয়ী বিজেপি প্রার্থী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, পরীক্ষার বেনিয়মটা আমরা বলতে পারি, কিন্তু এটা কিন্তু পরীক্ষার দুর্নীতি বলা যাবে না। কারণ, বেনিয়মটাই তো ধরেছি আমরা। পরীক্ষা যদি এই বেনিয়মের পরও যদি সরকার ধরতে না পারতেন এবং তারপরে পরীক্ষা হয়ে যেত। কিছু ক্যান্ডিডেট পেতেন, কিছু ক্যান্ডিডেট পেতেন না। সেখানে কিন্তু দুর্নীতির শুরু। আটকানো গেছে এবং সেটা বাতিল হয়েছে।
৩ মে মেডিক্যালের এই সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা হয়। পরীক্ষায় বসেন প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থী।তারপরই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসে।একটা গ্রেস কপি প্রথমে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেটা ভাইরাল পর্যন্ত হয়। হাতে লেখা কপি। তারপর দেখা যায় মিলিয়ে যে মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ম্য়াক্সিমাম মিল আছে। বহুলাংশে মিল আছে। এই মিল খুঁজে যাওয়ার পর তখনই একটা তড়িঘড়ি করে তদন্ত শুরু হয়। এরপরই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি। NTA-র তরফে জানানো হয়, কবে ফের পরীক্ষা, শীঘ্রই তা জানানো হবে। দ্বিতীয়বার ইস্যু হবে পরীক্ষার অ্য়াডমিট, এরজন্য নতুন করে রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজন নেই। পরীক্ষার জন্য বাড়তি ফি দিতে হবে না।
