কলকাতা : নয়াদিল্লি স্টেশনে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় প্রশ্নের মুখে রেলের ভূমিকা। প্রশ্ন উঠছে, কুম্ভ যাওয়ার জন্য ভিড় হচ্ছে জেনেও কেন বেশি ট্রেন চালানো হল না? ট্রেনে উপচে পড়া ভিড় সত্ত্বেও কেন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ছিল না? মহাকুম্ভে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুমিছিলের পরও কেন সতর্ক ছিল না প্রশাসন? পদপিষ্টের ঘটনাকে প্রথমে গুজব বলে দাবি করে রেল। পরে দুর্ঘটনার কথা স্বীকার করে রেল কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্য়েই বিরোধীদের নিশানা কেন্দ্রকে। এবার পাল্টা বিজেপি দিলীপ ঘোষ। বললেন,' পুলিশ তো আর সব জায়গায় লাঠি চালাতে পারে না, সাধারণ মানুষকে সতর্ক হতে হবে।'
দিলীপ বললেন, আমাদের দেশের যেখানে বড় জমায়েত হয়, সেখানেই কিছু না কিছু দুর্ঘটনা ঘটে যায়। কারণ মানুষেরও ধৈয্য কম। শৃঙ্খলতা মানতে চায় না। পুলিশ তো আর সব জায়গায় লাঠি চালাতে পারে না। কুম্ভতেও তাই হয়েছে। ব্যারিকেড ভেঙে ঢুকে যাচ্ছে।কিছু অঘটন ঘটে যায় তো দুর্ভাগ্যজনক। এত বিরাট জনসংখ্যা, আর কুম্ভের মত মেলা, পুরো হাইওয়ে , স্টেশন সব জায়গাতেই জ্যাম। তাই কিছু ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। সরকারকেও সতর্ক হতে হবে। দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে , সাধারণ মানুষকে সতর্ক হতে হবে।'
মহাকুম্ভে যাওয়ার পথে নয়া দিল্লি স্টেশনে পদপিষ্টের ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, নয়াদিল্লি স্টেশনে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় মর্মাহত। যাঁরা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন তাঁদের প্রতি সমবেদনা জানাই। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। কর্তৃপক্ষ এই পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করছে।
মহাকুম্ভে যাওয়ার পথে বিপর্যয়। এবার নয়াদিল্লি স্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে ৩ শিশু ও ১১ জন মহিলা-সহ মৃত্যু হল ১৮ জনের। আহতের সংখ্যা ২০-র বেশি। গতকাল রাতে প্রয়াগরাজে যাওয়ার নয়াদিল্লি স্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন যাত্রীরা। ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়েছিল প্রয়াগরাজ এক্সপ্রেস। স্বতন্ত্র সেনানী ও ভুবনেশ্বর রাজধানী এক্সপ্রেস লেট থাকায় স্টেশনে ভিড় উপচে পড়ে।
সবথেকে বেশি ভিড় ছিল ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে। প্রয়াগরাজ এক্সপ্রেসে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু হয়। ১৪ এবং ১৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে। যাত্রীদের অভিযোগ, একদিকে বারবার প্ল্যাটফর্ম বদলের ঘোষণা, আরেক দিকে ট্রেনে উপচে পড়া ভিড় সত্ত্বেও গতকাল রাতে প্রায় দেড় হাজার জেনারেল টিকিট বিক্রি হয়েছিল নয়াদিল্লি স্টেশনে। মাত্রাতিরিক্ত ভিড়ের চাপেই এই ঘটনা বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের।
আরও পড়ুন, ' কতগুলি প্রাণ গেলে মনে হবে রেলমন্ত্রীর, ওই চেয়ারটায় বসার নৈতিক অধিকার তাঁর নেই..'?
নয়াদিল্লি স্টেশনে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় প্রশ্নের মুখে রেলের ভূমিকা। প্রশ্ন উঠছে, কুম্ভ যাওয়ার জন্য ভিড় হচ্ছে জেনেও কেন বেশি ট্রেন চালানো হল না? ট্রেনে উপচে পড়া ভিড় সত্ত্বেও কেন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ছিল না? মহাকুম্ভে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুমিছিলের পরও কেন সতর্ক ছিল না প্রশাসন? পদপিষ্টের ঘটনাকে প্রথমে গুজব বলে দাবি করে রেল। পরে দুর্ঘটনার কথা স্বীকার করে রেল কর্তৃপক্ষ। কেন এই ঘটনা ঘটল, তা জানতে দুই সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।