ঝিলম করঞ্জাই, রানা দাস, কল্যাণী :  নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি ২ নার্স। বাংলায় আতঙ্ক চরমে। নিপা-আক্রান্ত সন্দেহে বারাসাতের বেসরকারি হাসপাতালের ভেন্টিলেশনে ভর্তি রাখা হয়েছে তাঁদের দুজনকেই। অসুস্থ এক নার্সের বাড়ি কাটোয়া, আরেকজনের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরে। কেমন আছেন তাঁরা ? কতটা বিপজ্জনক তাঁদের পরিস্থিতি? 

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এঁদের দুজনের একজনকে ইনভেসিভ ভেন্টিলেশন ও আরেকজনকে নন ইনভেসিভ ভেন্টিলেশনে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের দেওয়া হয়েছে অত্যন্ত উন্নত মানের অ্যান্টিভাইরাল। আগে কল্যাণী এইমসে নমুনা পরীক্ষা  করায় নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত বলে সন্দেহ দৃঢ় হয়েছে। এরপর আরও নিশ্চিত হতে নমুনা পাঠানো হয়েছে পুণের পরীক্ষাগারে। হাসপাতাল সূত্রের খবর, ব্রেন স্ক্যানের নমুনা দেখে নিপা ভাইরাস বলে সন্দেহ হয় চিকিৎসকদের । নিপা আক্রান্ত কিনা, নিশ্চিত হতে নমুনা পাঠানো হয়েছে পুণের ল্যাবে।

এই অসুখ এতটাই  সংক্রামক, প্রশ্ন উঠছে সম্প্রতি কাদের কাদের সংস্পর্শে এসেছিলেন অসুস্থ ২ নার্স? তা জানা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ছে। তাই, অসুস্থ ২ নার্স নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে স্বাস্থ্য দফতর। খবর সূত্রের। বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ হন তাঁরা।  মধ্যে এক মহিলা নার্সের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় আনা হয় বর্ধমান মেডিক্যালে। বর্ধমান মেডিক্যাল থেকে অসুস্থ নার্সকে আনা হয় বারাসাতের হাসপাতালে।  স্বাস্থ্য দফতরের তরফে কমিটি গঠন করা হয়েছে। জানা গিয়েছে ১১০ থেকে ১২০ জনের সংস্পর্শে এসেছিলেন অসুস্থ ২ নার্স। অসুস্থ ২ নার্সের সংস্পর্শে আসা প্রত্যেককেই আইসোলেশনে থাকার নির্দেশ দিচ্ছে প্রশাসন।  বর্ধমানে কার কার সংস্পর্শে এসেছিলেন ওই নার্স, তারও তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের ২ জন নার্স, একজন সুইপার ও বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্সের চালককেও চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছে। 

এদিকে, নিপা আক্রান্ত আরও রোগী এলে তাঁদের ভর্তি করার জন্য আলাদা পরিকাঠামো তৈরি করে রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালকে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তৈরি রাখা হয়েছে CCU আইসোলেশন কেবিন।       

জানা যাচ্ছে, ১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ায় প্রথম হদিশ পাওয়া যায় 'নিপা' ভাইরাসের। সেখানে একটি শূকরের ফার্ম থেকে ছড়ায় এই ভাইরাস, আক্রান্ত হন ২৬৫ জন। এদের মধ্যে ১০৮ জনেরই মৃত্যু হয়। ১৯৯৯ সালে সিঙ্গাপুরে ১১ জন 'নিপা' ভাইরাস আক্রান্তের হদিশ মেলে। ২০০৭ সালে শিলিগুড়িতে হদিশ মেলে 'নিপা' ভাইরাসের।